ঢাকা, রবিবার , ১৮ নভেম্বর ২০১৮, | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ৯ রবিউল-আউয়াল ১৪৪০

বিশ দলে বিচ্ছেদের বাজনা, অলি-পার্থ-ইব্রাহিমের পথ যাচ্ছে বেঁকে

একদিকে যখন যুক্তফ্রন্ট এবং বিএনপির বৃহত্তর ঐক্যের ঘনঘটা অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিশ দলীয় জোটে বিচ্ছেদের বাজনা। আগামী জাতীয় নির্বাচনে শরীক বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না থাকায় কর্নেল অলি আহমেদ এর এলডিপি, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের বিজেপি ও জেনারেল (অব) ইব্রাহীমের কল্যাণ পার্টি আলাদা ভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি অনেকটাই সম্পন্ন করেছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অক্টোবরের মাঝেই আসবে বলে দল তিনটির সুত্রে জানা যায়।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২০ দলীয় জোটের অন্তত ৫টি দলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই দলগুলো অংশ নেবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ সুত্র। তবে বিএনপি জানিয়েছে বিশ দরীয় জোট ভাঙ্গার কোন সম্ভাবনা নেই। বরং মহাজোটের কেউ কেউ জাতীয় ঐক্যের যাত্রী হবেন।

বিএনপির স্বেচ্ছাচারিতা আগামী জাতীয় নির্বাচনে শরিকদের আসন ভাগাভাগি বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না দেওয়াসহ নানা কারণে বিএনপি নেতৃত্বের বিশ দলে অনৈক্যের গান স্পষ্ট। বিশ দলের অনেকে ২০১৪ এর মত নির্বাচন বর্জনে আগ্রহী নয়। বরং তারা নিজ নিজ পছন্দের আসনগুলোতে জোরে সোরেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। আর বিশ দলের অবিশ্বাস আর অনৈক্যের এ সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।  সিলেট এবং রাজশাহী সিটি নির্বাচনে বিএনপি-জামাত দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয়। ২০ দলের প্রধান দুই শরিকের মধ্যে এখনো শীতল সম্পর্ক চলছে। এর মধ্যে ২০ দলের মধ্যে কয়েকটি দল মনে করছে, বিএনপি ২০ দলকে গুরুত্ব না দিয়ে যুক্তফ্রন্টের দিকে ঝুঁকছে। এনিয়ে তারা প্রকাশ্যেই বিএনপির সমালোচনা করছে। বিশেষ করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ২০ দলকে অকার্যকর করেছেন বলে জোটে অভিযোগ উঠেছে। ২০ দলের অধিকাংশ শরিকই ২০১৪’র মতো, আগামী নির্বাচন বর্জনের পক্ষে নয়।

একাধিক সূত্র বলছে, ২০ দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নির্বাচনে আনতে ঐ নেতাদের আসনগুলোতে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ঐ সূত্র মতে, এলডিপিকে ৩ থেকে ৫ আসন, বিজেপিকে ৩টি এবং কল্যাণ পার্টিকে ২ আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদের এক নেতা জানিয়েছেন, কোন জোটের দিকে না তাকিয়ে বরং কোন জোটের ফাঁদে গণতন্ত্রের স্বার্থে যাতে অনেকেই পা না দেয় তার রাজনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। ২০১৮ এর নির্বাচন অনেক বেশি অংশগ্রহণমূলক হবে যদি বিএনপি শেষ পর্যন্ত অংশ না নেয়। একাধিক সূত্র মতে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তিন গুরুত্বপূর্ণ নেতা গত কয়েকদিন কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি, আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), জেনারেল (অব.) ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এছাড়াও ২০ দলীয় জোটের শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টি। বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সঙ্গেও আওয়ামী লীগ নেতারা নিয়মিত যোগাযোগ  রাখছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিশ দলের শরীকদের মধ্যে যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তারা বলছেন, অবজ্ঞায় অবহেলায় প্রতারিত হয়েই আমরা আগামী নির্বাচনের বিকল্প খুঁজছি। এদিকে বিএনপির ঢাকা মহানগরের এক নেতা আজ২৪ কে বলেন, বিশ দলের জোটতো ভাংগবেইনা বরং মহা ঐক্যে কার ঘর বিরান হয় তা দেখবেন খুব শিগগির।


%d bloggers like this: