ঢাকা, সোমবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, | ৩ পৌষ ১৪২৫ | ৯ রবিউস-সানি ১৪৪০

বেড়েছে ইলিশ! বাড়ছে ইলিশ! বাড়বে ইলিশ!

বেড়েছে ইলিশ

এ নিয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই বেড়েছে ইলিশ উৎপাদন। পরিসংখ্যান এবং বাস্তব অভিজ্ঞতাও এই তথ্যের সত্যতা জানায়। মাছের রাজা ইলিশ। । তবে স্বাদ মেটানোর খায়েশ ১০ বছর আগেও মধ্যবিত্ত বাঙ্গালির জন্য বেশ কঠিন ছিল। কিন্তু অনেকটা ভোজবাজির মত যেন পাল্টে গেছে সেই পরিস্থিতি। বাংলাদেশের সব শ্রেণীর বাঙ্গালির পাতে ইলিশ এখন আর খুব কষ্টসাধ্য কোন কিছু নয়। দেশের জিডপিতেও এখন বড় অংশগ্রহণ রাখছে রুপালি ইলিশ।  আর এই ভোজবাজির মূল কারণ ইলিশের সরবরাহ বৃদ্ধি। যেখানে আগে ২১ টি নদীতে ইলিশ মিলত এখন সেখানে ৩৭টি নদীতে মেলে ইলিশ।

মাত্র ৯ বছরের ব্যবধানে এ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ দশমিক ৯৮ লাখ মেট্রিক টন, যা বৃদ্ধি পেয়ে গত ৯ বছরে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। এই পরিমাণ ইলিশ মাছের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। সরকারি সূত্র জানিয়েছে ২০১৭-১৮ সালে ইলিশের উৎপাদন ৫ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ১০ বছর আগেও দেশের মাত্র ২১টি উপজেলার নদীতে ইলিশ পাওয়া যেত। এখন ইলিশ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ১২৫টি উপজেলার নদীতে। আর দেশের নদীতে ধরা পড়া মোট মাছের ১১ শতাংশই ইলিশ।

দেশের জিডিপিতে ভালো অবদান রাখছে ইলিশ। তথ্যমতে, দেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান এক দশমিক ১৫ শতাংশ। কাজেই একক প্রজাতি হিসেবে ইলিশের অবদান সর্বোচ্চ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৩১ শতাংশ মানুষ মৎস্যখাতে জড়িত এবং ১১ শতাংশের অধিক লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত মাছের প্রায় ১২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকে। বিশ্বে ইলিশের উৎপাদনে বাংলাদেশ অবস্থান প্রথম। বিশ্বের মোট ইলিশের ৭০-৭৫ ভাগ বাংলাদেশে উৎপাদন হয়। বাকি ইলিশ উৎপাদিত হয় প্রধানত ভারত ও মিয়ানমারে।

সরকারী যথাযথ পরিকল্পনার ফলে ইলিশ মাছের এমন বিপ্লব ঘটেছে বলে মনে করে মন্ত্রনালয়। বিশেষ করে জাটক নিধন রোধ এবং বছরেরর নির্দিষ্ট সময় ইলিশ ধরা বন্ধের কারণেই এই সফলতা বলে তাদের অভিমত। মৎস্য মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন নদীতে ইলিশ ধরা পড়লেও বিশেষ করে চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর হচ্ছে ইলিশ অধ্যুষিত জেলা। এই জেলাগুলোর আশপাশের নদীগুলোকে কেন্দ্র করেই গড়ে তোলা হয়েছে ইলিশের অভয়ারণ্য। সাগর থেকে ইলিশের ঝাঁক এইসব জেলার আশপাশের নদীগুলোয় এসেই ডিম ছাড়ে। পদ্মাসহ চাঁদপুরের মেঘনা, ভোলার তেতুলিয়া, বরিশালের কীর্তনখোলা, পটুয়াখালীর পায়রা, আগুন মুখা, পিরোজপুরের বলেশ্বর এবং সন্ধ্যা নদীর মাছ সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, একটি মা-ইলিশের পেটে থাকা দুই ফালি ডিমের ছড়ায় থেকে সর্বনিম্ন দেড় লাখ এবং সর্বোচ্চ ২৩ লাখ পর্যন্ত ডিম থাকে। মা ইলিশ পানিতে ডিম ছাড়ার পর এর ৬০ শতাংশ বা তারও বেশি থেকে পোনা উৎপাদন হয়ে থাকে। তবে ডিম থেকে পোনা উৎপাদনের পরিমাণ মূলত নির্ভর করে পানির গভীরতা ও উষ্ণতা,স্রোতের তীব্রতা,চাঁদের অবস্থান, আবহাওয়া ইত্যাদি নানা কিছুর ওপর।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ কে বলেন, সরকারের সুপরিকল্পনা ইলিশ উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়েছে। তিনি জানান ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম ধরে গত বছর আশ্বিন মাসের প্রথম চাঁদের পূর্ণিমার দিন এবং এর আগের তিন দিন ও পরের ১১ দিনসহ মোট ১৫ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ ছিল। আর এবছর আশ্বিন মাসের প্রথম চাঁদের পূর্ণিমার দিন এবং এর আগে চার দিন ও পরের সতের দিনসহ মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। এ সময়ে ইলিশ ধরা ঠেকাতে নদীতে অভিযান চালানো হবে। সরকারের নির্দেশ অমান্য করলে শাস্তি অবধারিত বলে হুশিয়ার করেন তিনি।


%d bloggers like this: