ব্যারিস্টার মইনুলের প্রকাশনায় বের হওয়া ইংরেজী দৈনিক ‘নিউ নেশন’-এর বিরুদ্ধে আইনি পথে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগ আনতে চলেছেন ব্যারিস্টার তুরিন। এত ব্যারিস্টার মইনুলকে অভিযুক্ত করা হবে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেছেন, তার আইনজীবী বিষয়টি দেখবেন।

চলতি বছরের ১৮ মে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের মালিকানাধীন ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা ‘দ্য নিউ নেশনে’ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। পত্রিকাটির মালিক মইনুলের নির্দেশনায়ই ওই পত্রিকার সাংবাদিক সাগর বিশ্বাস প্রতিবেদনটি করেছিলেন বলে তখন অভিযোগ ওঠে। ওই প্রতিবেদনে তুরিন আফরোজের ব্যাপারে মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে বিভিন্ন দুর্নীতি করে তিনি (তুরিন) নিরাপদে ইংল্যান্ডে বসে আছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেই সময় তুরিন আফরোজ বাংলাদেশেই ছিলেন।

তুরিন আফরোজের পাসপোর্টেও তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁর পাসপোর্ট থেকে জানা গেছে, তিনি সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বিদেশে যান। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশে ফেরেন। এরপর থেকে তিনি আর বিদেশে যাননি।

সম্মানহানি করার জন্যই এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি তুরিন আফরোজের।

এ বিষয়ে তিনি আজ-কে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জন্য খুবই দুঃখজনক ছিলো। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছড়িয়ে আমার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ছিলো। আমাকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করার হীন উদ্দেশ্য ছিলো।’

তুরিন বলেন, ‘সাংবাদিকতার নৈতিকতা মেনে তারা একটা মন্তব্য নেওয়ার বা যোগাযোগের প্রয়োজনও মনে করেননি।’

তখন ওই পত্রিকার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তুরিন আফরোজ বলেন, ‘ব্যবস্থা গ্রহণের সময় এখনো চলে যায়নি। সে সময় আমাকে আরো অনেকগুলো বিষয় মোকাবিলা করতে হয়েছে।’ ব্যারিস্টার মইনুলকে অভিযুক্ত করবেন কি না প্রশ্নে তিনি জানান, তার আইনজীবী যেভাবে বলবেন সেভাবেই হবে।

কবে নাগাদ আইনি প্রতিবিধান চাইবেন প্রশ্নে তিনি জানান, আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে শিগগিরই আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

সর্বশেষ একাত্তর টেলিভিশনের একটি টকশোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে কটূক্তি করার পর মইনুলের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। রাজপথের আন্দোলন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত ১/১১ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টাকে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ। সোমবার (২২ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মইনুলের বিরুদ্ধে ক্ষোভের প্রকাশ ঘটান।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি মানহানি মামলা দায়েরের পর শেষ পর্যন্ত সোমবার রাতেই গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই নেতাকে। মঙ্গলবার আদালতে তার জামিন আবেদন নাকচ হয়ে গেলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।