ঢাকা, বুধবার , ২৪ জুলাই ২০১৯, | ৯ শ্রাবণ ১৪২৬ | ২০ জিলক্বদ ১৪৪০

ভারতে সম অধিকার দাবিতে ৫০ লাখ নারীর মানববন্ধন

সম অধিকার দাবিতে ৬২০ কিলোমিটারজুড়ে মানববন্ধন করেছেন ভারতের কেরালা রাজ্যের নারীরা। মঙ্গলবার(১ জানুয়ারি) মানবাধিকার সংগঠেনের আয়োজনে প্রায় ৫০ লাখ নারী এ মানববন্ধনে অংশ নেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার সবরীমালা মন্দিরে ঐতিহ্যগতভাবেই ঋতুমতী নারীদের প্রবেশ করা নিষিদ্ধ। সেই ধারাবাহিকতায় এখানে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীরা প্রবেশ করতে পারে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ ব্যবস্থা ভারতীয় সংবিধানের পরিপন্থী বিবেচনায় গত সেপ্টেম্বরে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত এ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রায় দেয়। কিন্তু তারপরও মন্দিরটির উদ্দেশ্যে আসা নারী দর্শনার্থীরা প্রতিবাদকারীদের হামলার মুখে পড়ছেন।

এই পরিস্থিতিতেই কেরালার বামপন্থী জোট সরকারের উদ্যোগে নারীদের দীর্ঘ এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। কেরালার সব জাতীয় মহাসড়কজুড়ে এ প্রাচীর গড়ে তুলতে রাজ্যের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রায় ৫০ লাখ নারী যোগ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে রাজ্যের কর্মকর্তারা। কেরালার সর্ব উত্তরের শহর কাসরাগড থেকে সর্ব দক্ষিণের শহর থিরুভানথাপুরাম পর্যন্ত এ মানববন্ধন বিস্তৃত ছিল বলে জানিয়েছেন তারা।

খবরে আরো বলা হয়েছে, উদ্যোক্তারা এই মানবপ্রাচীরে ৩০ লাখের মতো জমায়েত আশা করলেও উপস্থিতির সংখ্যা তাদের প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে যায়। কেরালার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অসাম্য ও সবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী নারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতি সমর্থন জানানো ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর উদ্যোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রত্যয়েই এই মানববন্ধনে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

অংশগ্রহণকারী তরুণী কবিতা দাস বলেন, নারীরা কতো ক্ষমতাবান এবং কীভাবে আমরা নিজেদের ক্ষমতাবান করতে তুলতে পারি ও একে অপরকে সাহায্য করতে পারি তা বলার দুর্দান্ত উপায় এ উদ্যোগ। আমি সব বয়সী নারীদের ওই মন্দিরে প্রবেশের অধিকারকে সমর্থন করি। ঐতিহ্য বা কোনো ধরনের পশ্চাৎপদতা নারীদের থামাতে পারবে বলে আমি মনে করি না। যারা প্রার্থনা করতে চায় তাদের অবশ্যই প্রার্থনা করার অধিকার আছে।

অংশ নেওয়া আরেক নারী তনুজা ভাত্রাদ্রি বলেন, আজকের প্রধান ইস্যু সবরীমালা নয়, আমি বিশ্বাস করি নারী-পুরুষের সাম্যতায়।

ঋতুমতী বয়সের মেয়েদের প্রবেশাধিকারকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে তুমুল বিতর্ক আর আন্দোলন চলছে শবরীমালা মন্দিরকে ঘিরে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর প্রায় তিনমাস হতে চললেও এ রায়ের বাস্তবায়ন হয়নি। ভক্তদের তুমুল প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখে আজ পর্যন্ত ওই হিন্দু মন্দিরে ওই বয়সী কোনো নারী ঢুকতে পারেননি। মূলত শরবীমালা মন্দিরে প্রবেশের পথে বাধা ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিরোধিতা। তারা মনে করে, শরবীমালা মন্দিরে নারীদের প্রকেশের অনুমতি দিয়ে শীর্ষ আদালত হিন্দু রীতিনীতির প্রতি আঘাত হেনেছে।


%d bloggers like this: