ঢাকা, বুধবার , ২৪ জুলাই ২০১৯, | ৯ শ্রাবণ ১৪২৬ | ২০ জিলক্বদ ১৪৪০

ভিকারুননিসা স্কুলের নাম বদলে যাচ্ছে!

শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার পর ভিকারুননিসার স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাকিস্তান আমলের নাম পরিবর্তন নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন।

তিনি বলেছেন, স্কুল সম্পর্কে যেসব অভিযোগ আসছে সেগুলো আমলে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমরা অনেক অ্যাটেমপ্ট (পদক্ষেপ) নিয়েছি, আরো নেব। রোববার (৯ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

প্রতিষ্ঠানটির পাকিস্তানি আমলের নাম পরিবর্তন নিয়ে অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সচিব বলেন, আমরা অনেক পদক্ষেপ নেব। যত প্রশ্ন এসেছে, যত অভিযোগ এসেছে এরই মধ্যে আদালত একটা কমিটি করে দিয়েছেন, আমরাও কমিটি করেছি। আমরাও পরিদর্শন করব, বিভিন্নভাবে চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, সকাল থেকে এ বিষয় নিয়ে বসেছিলাম যাতে প্রতিষ্ঠানটি ভালোভাবে চলে, শিক্ষকরা-অভিভাবকরা সন্তুষ্ট থাকে, যাতে শিক্ষকরা মর্যাদাবান থাকেন। শিক্ষার্থীরা যাতে প্রকৃত নাগরিক হয়ে গড়ে উঠতে পারে সেজন্য আমাদের সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।

সচিব বলেন, যেসব অভিযোগ অভিভাবকরা করছেন, শিক্ষার্থীরা করছেন, আপনারা করছেন, সেগুলো থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আমরা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেশকিছু অ্যাটেমপ্ট নিয়েছি এবং আরো নিতে থাকব যাতে একটা আদর্শ প্রতিষ্ঠান হয়। সেখানকার কমিটি কীভাবে কার্যকর থাকবে, শিক্ষকরা কীভাবে পরিচালিত হবেন, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের মঙ্গল চিন্তা করবেন, শিক্ষার্থীরা কীভাবে ভালো থাকতে পারবেন, ভালো ফল করে ভালো মানুষ হবেন- আমরা এ রকম কিছু অ্যাটেমপ্ট নেওয়া শুরু করেছি।

প্রভাবশালীদের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সচিব বলেন, আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমি, আমার মন্ত্রী বা আমার বিভাগের এমনকি আমি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সম্পর্কে বলতে পারি, আমি কখনো কোনো ভর্তির তদবিরও করিনি, চাকরি তো দূরের কথা। একজনও যদি বলতে পারেন যে আমি বা আমার মন্ত্রীর একজন যে কেউ ভর্তি হয়েছে, চাকরি তো অনেক বিরাট ব্যাপার, সে জায়গায় তো আমরা যায় না। আমার মনে হয় কেউই বলতে পারবে না আমরা একজনকে ভর্তি করিয়েছি।

তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগ আমরা করি না, এটি একটি প্রাইভেট স্কুল, সেখানে একটা ম্যানেজিং কমিটি আছে। তারা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন, তারাই সে কাজটি করেন। কিন্তু এখন যে প্রশ্নগুলো আসছে, ওটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। পরিপূর্ণ কন্ট্রোলটা আমাদের নেই। কিন্তু আমরা সেটি নিশ্চিত করার জন্য তাদের সেভাবে অনুরোধ করব বা আমাদের কার্যক্রমগুলো মেনে সেভাবে করতে পারে সে পথটা আমরা করে দেব যাতে নিরপেক্ষভাবে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ হয়।

সেখানকার শিক্ষকদের সঙ্গে কী আচরণ হবে, অভিভাবকের সঙ্গে কী আচরণ হবে, সাংবাদিকদের সঙ্গে কী আচরণ হবেÑ এগুলো আমাদের উন্নত করতে হবে, সেজন্য আমরা বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিচ্ছি। কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় গেলে তারা নিয়ম-কানুন মানতে বাধ্য থাকেন এবং নিয়ম-কানুন অনুযায়ী পরিচালিত হয় সেজন্য আমরা ওয়ার্ক আউট করছি, যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের দিক থেকে সরকার এবং আদালতের দিক থেকে আদালত ব্যবস্থা নিচ্ছেন, আমার মনে হয় যৌক্তিক ফল পাব।
ছাত্রীদের ক্লাস ও অন্য একাডেমিক কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করছি পরিস্থিতি সবার জন্য সম্মানজনক হবে। আমার আবেদন থাকবে, দেশে একটা নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, বেশি দিন নেই। এ সময় আমরা সবাই যেন সবার অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণের কথা চিন্তা করি।

আজ ২৪ প্রতিবেদক, ঢাকা


%d bloggers like this: