ঢাকা, বুধবার , ১৭ জুলাই ২০১৯, | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ | ১৩ জিলক্বদ ১৪৪০

ভিড় বাসের মেয়েরা, একটা ক্লিক একটা প্রতিবাদ!

মারজিয়া প্রভা ● পারভার্টটাকে আমি ভুলি নি। চোখ ভুলি নি, মুখ ভুলি নি। এমনকি ঠোটে যে গ্যাদা গ্যাদা করে ভেসলিন দিয়ে রাখে তাও ভুলি নি! অফিসেই বসেই আবার স্ট্যাটাসটা লিখছি।

ডিসেম্বর ১৩ তারিখে বিআরটিসি বাসে আমার সঙ্গে যে পারভারশন হয়েছিল, সবাই সহমর্মিতা দেখিয়েছিল, সান্ত্বনা দিয়েছিল, কেউ কেউ সেটা নিয়ে কনফিউশন প্রকাশ করেছিলো, তাদের সবার প্রতি একটাই কথা, ‘আমি শুধু ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভুলে যাই নি, আমি পেরেছিও’। সেদিনের স্ট্যাটাস বা ঘটনা রিপিট করে লেখার ইচ্ছে নেই, এখান থেকে পড়ে নেবেন। আজ শুধু আমার জয়ের কথা হবে!

আজও সেই লোককে দেখলাম, অন্য মহিলার গা ঘেঁষে তার পেনিস লাগিয়ে রেখেছে, পায়ের সঙ্গে। সেই বিআরটিসি, সেই উঁচু উঁচু সিটওয়ালা মোহাম্মদপুর টু কুড়িল রোডের বিআরটিসি। আমি জাস্ট ২ মিনিট সময় লাগিয়েছিলাম তাকে চিনতে। তারপরই প্ল্যান চলছিলো, কীভাবে আজ সেই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়া যায়।

যে মহিলার সাথে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ছিলো, সেই মহিলা অসহায়। বার বার বিরক্ত হয়ে উহ আহ করছে, কিছু বলছে না। লোকটাও চরম আনন্দে লাগিয়ে রেখেছে। আমি পিছনে সিটে বসে ছিলাম। উঠে দাঁড়িয়ে আরেকটা আপুকে বললাম, আপনি বসেন, আমি দাঁড়াই। আপু অবাক হয়ে গেল, কেন আমি দাঁড়াবো সিট ছেড়ে! কিন্তু আমার প্ল্যান যে অন্য!

বাসে যৌন হয়রানি-০০১

যেখানে লোকটা দাঁড়িয়ে ছিলো, খুব নাটকীয় ভঙ্গিতে লোকটার সামনে দাঁড়ালাম। বললাম, ‘আপনার সঙ্গে সেদিন আমার বাসে দেখা হয়েছিল না?’
লোক হেসে একবার হ্যাঁ বলে, একবার না বলে। আমি বললাম, ‘খুব ভুল না হলে আপনি ছিলেন, সেদিনও আমার সঙ্গে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আজকেও অন্য মেয়ের সঙ্গে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছেন।
– তো কি? আমি মেয়েদের পাশে দাঁড়ালে কি সমস্যা?
– আমি অনেকক্ষণ ধরে দেখছি, আপনি মেয়েদের সঙ্গে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এই জন্যই সমস্যা। একবার ওই মহিলার পাশে দাঁড়ান, এখন এই মহিলার পাশে, পাইছেন কি আপনি?
– আরে বাবা! আমি তো নামবো!
– সেদিন বাসে আমার সাথেও এই কাজ করেছেন।
– আপনার সঙ্গে আমি বাসে ছিলাম না।
– আমার স্মরণশক্তি খুব ভালো। আপনি ছিলেন এবং এইরকম লাগায় দিয়ে ছিলেন। আজও তাই করতেছেন। (যে মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছে, তার দিকে তাকিয়ে) আপু এই লোক লাগায় আছে না, আপনার শরীরে।
আপু বললো, হ্যাঁ আপু অনেকক্ষণ ধরে।
আরেক মেয়ের সিটের পাশে ছিলো, তাকেও বললাম, ‘কি আন্টি,আপনার সঙ্গেও সেম কাজ করেছে না?’। আন্টি দুর্বল, তবুও বললো ‘হ্যাঁ মা’।

আমি চিৎকার দিয়ে বললাম, ‘কি পারভার্টের বাচ্চা, গায়ে লাগায় থাকতে খুব মজা তোর’। কলার ধরলাম চেপে; আমাকে, আরেকটা মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে নামলো, গন্তব্যের অনেক আগে।

আমরা সব মেয়েরা মিলে কন্ডাক্টরকে বললাম, এই লোক বাসে যেন না উঠে, আর।
এক মেয়ে বললো, চেহারা ভুলে যাবো তো।

আসলেই তাই, চেহারা ভুলে যাবো তো! আমি ভিকটিম! তাই ভুলি নি! কিন্তু এর তো পার্মানেন্ট ডিউটি হয়ে গেছে, বাসে উঠে রোজ সকালে এইসব করা! অন্যরা যে একে আটকাবে, বা বাসে উঠতে দিবে না, তার তো সলিড কোনো প্রমাণ লাগবে।

আমরা চলতি পথে অনেক সময় প্রতিবাদ করতে পারি না। অন্যের জন্য তো নয়ই, নিজের জন্যও না। কিন্তু একটা কাজ করা গেলে কেমন হয়, বাসে যেসব পারভার্টের দল নিত্যনতুন নিয়ম করে মেয়েদের হ্যারাস করে, তাদের ওই মুহূর্তের ছবি ক্লিক করে তুলে রাখলে!

আমরা প্রতিবাদ করবো, পাশাপাশি ওই বেটার মুখ আর কর্মকাণ্ডের ছবি তুলে রাখবো। নেক্সটে ওই লোক বাসে কোনো পারভারশনের কাজ করলে, পুরান ওই ছবির কথা মনে রেখে সাবধান থাকা যাবে এবং প্যাঁদানি দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যাবে। এমনকি পুলিশের কাছে এই ছবিগুলো পৌঁছে গেলে, তারাও ব্যবস্থা নিতে পারবে।

শুরুটা কি করা যায়? স্মার্টফোন তো সবার হাতেই আছে প্রায়। একটা ক্লিক, একটা প্রতিবাদ!

আজ/এমপি/এমকে/৩০৪

ফেসবুকে আজ ● facebook/aaj24fan

আরও পড়ুন:

ভিড় বাসের মেয়েরা, এবার তো চিৎকার করো!

ডোনেট এ প্যাড


%d bloggers like this: