ঢাকা, সোমবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, | ৩ পৌষ ১৪২৫ | ৯ রবিউস-সানি ১৪৪০

ভুল মানুষের মুখে ভুল করে হলেও, এভাবেই জীবন্ত উপলব্ধি হন মহানায়ক

ভুল মানুষের

এটাই ইতিহাসের অসাধারণ শিক্ষা।এভাবেই ফিরে ফিরে আসেন মহানায়ক ভুল মানুষের মুখে ভুল করে হলেও জীবন্ত উপলব্ধি হয়ে। বাংলাদেশ জন্মের মহানায়ক বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ঘোর বিরোধীদের সামনে উপস্থিত হন।

২৪ অক্টোবর সিলেটে সমাবেশ করেছে নবগঠিত জোট ঐক্যফ্রন্ট। যেখানে আছে সংসদের বাইরে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। যার নেতৃত্বে আছেন আছেন একদার আওয়ামী লীগের বড় নেতা বর্তমানের গণফোরাম প্রধান একজন সদা ‘পলায়নপর’ ডক্টরেট ডিগ্রির কামাল হোসেন। যেখানে আছেন স্বৈরাচারী এরশাদ আমলের গৃহপালিত বিরোধী দলের প্রধান এবং যার নামের ক্ষুদ্রাংশের অর্থ বলা হত (আসল শয়তানের মূল) আসম রব, আছে ‘হতাশা’র বশবর্তী হয়ে আদর্শ বদলানো এক বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সুলতান মুহাম্মদ মনসুর, আছেন মুক্তিযুদ্ধে দারুন ভূমিকা থাকা কিন্তু আপোষ এবং স্বার্থের চোরাটানে ‘মিথ্যেবাদী’ বনে যাওয়া একজন ডাক্তার জাফরুল্লাহ, আদর্শের বুলি কপচানো ‘মিষ্টভাষি’ কিন্তু পুরোটা কপট একজন ‘বিষধর’ মাহমুদুর রহমান মান্না।
অস্তিত্বের সংকটে ভুগতে থাকা বিএনপি এসে ঠাই নিয়েছে তথাকথিত ঐক্যফ্রন্টের ছাতার নীচে। যে বিএনপির একজন নেতা বলেন, প্রয়োজনে শয়তানের সঙ্গেও ঐক্য হবে। সেই জোট হয়েছে এবং তা শয়তানের জোট কিনা তা মানুষ এখনই বুঝে উঠছে। নিজেদের মধ্যে চরম অবিশ্বাস এবং সন্দেহ ভেতরে ভেতরে কিন্তু উপরের আলগা জোটের প্রথম সমাবেশ হয়েছে সিলেটে।

মঞ্চে বসা বিএনপির পক্ষে মীর্জা ফখরুল, মওদুদ আহমেদ, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ। সেই অনুষ্ঠানের পুরো জমায়েতইতো বি-জাত (বিএনপি-জামাত) সমর্থকদের তা বলতে কোন রাজনৈতিক বিশ্লেষক লাগেনা বরং স্কুল পড়ুয়া ছেলে মেয়েরাও বলতে পারবে। সেই বিএনপি নেতাদেরত কথাতো বাদই দেওয়া গেলো, মঞ্চের সামনে ছোট মাঠে বড় মনে হওয়া জমায়েত বিএনপি-জামায়াত অনুসারীদের মুখচ্ছবি এবং মানসিক অবস্থা ভাবলেই স্পস্ট ঢাকায় বসে অনুভব করা যায় তাদের অসহ্য অস্বস্তি কিন্তু শুনতে বাধ্য হওয়ার মর্মান্তিক উপলব্ধি।

দায়ে পড়ে কিংবা ঠেলার নাম বাবাজি বলেই হোক না কেন, মুজিব কোট পরে যখন একজন তার বক্তব্য শেষ করেন জয় বাংলা জয় জয় বঙ্গবন্ধু বলে কিংবা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিককৃতিতেও শ্রদ্ধা জানানোর কথা বলেন একজন তখন ইতিহাসের অসাধারণ শিক্ষাই মূর্ত হয়ে ওঠে।

লেখক : হাসান আহমেদ, সাংবাদিক

(লেখাটি লেখকের একান্ত নিজস্ব অভিমত। আজ ২৪-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)


%d bloggers like this: