ঢাকা, সোমবার , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ | ১৩ মুহাররম ১৪৪০

ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ দাবড়ে বেড়াচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী প্রচারণায় দেশের উত্তরাঞ্চলের ট্রেনযাত্রার পর এবার দক্ষিণাঞ্চলে লঞ্চযাত্রায় যাবেন দলটির নেতারা। সফরে সরকারের সাম্রগিক উন্নয়নের চিত্র তৃণমূলের জনগণের কাছে তুলে ধরবেন তারা।

আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর লঞ্চে করে দক্ষিণাঞ্চলের জেলা বরগুনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবাদুল কাদের।

তবে দ্বিধাদ্বন্দ্বের দোলাচলে বিএনপি এখনো নির্বাচনী মাঠেই নামতে পারেনি। ফলে খোলা মাঠে একাই খেলতে হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের। যদিও এ জন্য আওয়ামী লীগ নেতারা প্রায়ই অস্বস্তিতে পড়েছেন। আর সে অস্বস্তির কথা বলেছেনও অনেকে।

গত মে মাসে ভোলায় এক জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘আপনারা আসেন, আমরা একা মাঠে আর খেলতে চাই না। একা মাঠে খেলতে আর ভালো লাগে না। মাঠে খেলে গোল দিতে চাই।’

নাসিমের ওই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়, একা মাঠ দাবড়াতে গিয়ে কতটা অস্বস্তিতে রয়েছেন তারা। কিন্তু সামনে নির্বাচন বলে কথা! তার জন্য কি বসে থাকা যায়? বাঁধাধরা সময়েই জাতীয় নির্বাচন হবে।

আওয়ামী লীগের চোখে এখন হ্যাটট্রিক জয়ের স্বপ্ন। টানা তৃতীয়বার নির্বাচনে জয় পেতে হলে মাঠে অবিশ্রান্ত থাকতে হবে তাদের। নির্বাচন পর্যন্ত নেতাকর্মীদের ব্যস্ত রাখতে নানা প্রস্তুতিমূলক কর্মকা- শুরু করেছেন তারা। ইতোমধ্যে নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি যেমন সম্পন্ন করেছে তেমনি নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় শহরও সফর করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। ক্ষমতায় থাকার সুবাদে বাড়তি যত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে সবটাই ব্যবহার করছেন তারা। ফলে নির্বাচনী তফসিলের আগেই নির্বাচনী প্রচারণায় সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দলটি।

দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা-নগর পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সম্পন্ন করেছেন। কয়েক দফায় বিভিন্ন পর্যায়ের জরিপের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত করেছেন দলীয় প্রার্থীর তালিকাও।

জানা গেছে, আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহার তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় সে ইশতেহারের তৈরির কাজ দেখভাল করছেন।

এসব জরুরি কাজের পাশাপাশি ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, বিগত ১০ বছরে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা তুলে ধরার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এসব কাজে কোনো ধরনের গাফিলাতি করতে চাইছেন না তারা। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন নির্দেশনাও পৌঁছে গেছে তৃণমূল পর্যন্ত।

কোথাও কোনো ধরনের অনৈক্য, গৃহবিবাদ, দলাদলি ও কোন্দল বরদাশত করা হবে না বলে দলীয় নেত্রী জানিয়ে দিয়েছেন। গত শনিবার ট্রেনে উত্তরবঙ্গ সফর করতে গিয়ে টাঙ্গাইলে এক পথসভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করবেন না। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। তিন দিনের মধ্যেই শোকজ যাবে। দিনাজপুর যাবে, রাজশাহী যাবে, বরগুনা যাবে, সিলেট যাবে। ঘরের মধ্যে ঘর বানানোর চেষ্টা করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি টানানোর চেষ্টা করবেন না। শেখ হাসিনার অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন।’

মূলত, শনিবার ট্রেনে চড়ে অনানুষ্ঠানিক নির্বাচনী যাত্রা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। উত্তরাঞ্চল সফরের মধ্য দিয়ে এ যাত্রা তারা শুরু করেছেন। ঢাকা থেকে নীলফামারী যাওয়ার পথে টাঙ্গাইল, ঈশ্বরদী, নাটোর, বগুড়ার সান্তাহার, জয়পুরহাট, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর, দিনাজপুরের বিরামপুর, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর ও নীলফামারীর সৈয়দপুর স্টেশনে পথসভা করেছেন। সেখানে প্রতিটি সভায় বক্তব্য রাখেন ওবায়দুল কাদের। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে তিনি আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান এবং নৌকায় ভোট কামনা করেন।

আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, এ ধরনের ঝটিকা যাত্রা দক্ষিণাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও চলবে। পর্যায়ক্রমে সব জেলায় এ যাত্রা চলবে। যেখানে ট্রেন যায় সেখানে ট্রেনে, যেখানে বাস যায় সেখানে বাসে এবং যেখানে লঞ্চ যায় সেখানে লঞ্চে চলবে এ ঝটিকা যাত্রা।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, জনগণ ভোটের জন্য প্রস্তুত। সে ভোটে কারা আসবে না আসবে তা নিয়ে জনগণ চিন্তিত নয়। তাই আওয়ামী লীগ ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপির মতো মাঠের প্রধান দলকেও আহ্বান জানাচ্ছে নির্বাচনে অংশগ্রহণের।

আজ ২৪ প্রতিবেদক, ঢাকা


%d bloggers like this: