ঢাকা, শনিবার , ২৩ মার্চ ২০১৯, | ৯ চৈত্র ১৪২৫ | ১৫ রজব ১৪৪০

এখন অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, আলোয় কাটুক অন্ধকার

কাইয়ুম আহমেদ

বহুল প্রতীক্ষিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হয়েছে। এখন অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের। গোটা দেশের নজর ভোটের মাঠে। কাল রোববার দেশের ২৯৯ আসনে সাড়ে ১০ কোটি ভোটার যাদের পক্ষে রায় দেবেন, আগামী পাঁচ বছর তাদের হাতেই থাকবে বাংলাদেশের শাসনদণ্ড।

ভোট নিয়ে যে মহারণ আসন্ন, এখন তারই প্রস্তুতি চলছে রাজনৈতিক দলগুলোতে। ২০ দিনের প্রচারে আভাস মিলেছে, ‘কেহ কারে নাহি ছাড়ে, সমানে সমান’ লড়াইয়ের। মাসখানেক ধরে চলমান নির্বাচনী উত্তেজনায় সব দলের অংশগ্রহণে এ মহারণে জয়-পরাজয় দেখার প্রতীক্ষায় মুখিয়ে আছে জাতি। অন্ধকার কেটে আলোয় ভরে উঠুক আগামীর দিন-ক্ষণ।

২০১৪ সালে অধিকাংশ নিবন্ধিত দলের বর্জনে ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার পাঁচ বছর পর এবারের নির্বাচনে প্রায় সব দল অংশ নিচ্ছে। আর এবারই একটি গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে রেকর্ড সংখ্যক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

এবারের নির্বাচনে একটি আসনের প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ২৯৯টি আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৩ জন। এদের মধ্যে নারী ভোটার ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩১১ এবং পুরুষ ৫ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৬২ জন। নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালন করবেন ৪০ হাজার ১৮৩ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩১৬ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৩ লাখ ৯০ হাজার ৬৩২ জন পোলিং অফিসার।

এদিকে ভোট নির্বিঘ্ন করতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে সারাদেশ। স্ট্রােইকিং ফোর্স  হিসেবে মাঠে নেমেছেন সেনা সদসদস্যরা। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া সতর্ক  রয়েছে অন্য সব বাহিনীও।

নিবন্ধিত ৩৯ দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে এবার এক হাজার আটশর বেশি প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে আছেন। এর মধ্যে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ও জোটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ছড়িয়েছে উত্তাপ। তাই নির্বাচন নিয়ে জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকেই যাচ্ছে।

বিএনপি ও তাদের জোট ঐক্যফ্রন্ট তাদের ভোটের প্রচারে বাধা দেওয়া, হামলা-ভাঙচুর, পুলিশি হয়রানির অভিযোগ করে আসছে শুরু থেকেই। পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশারের পদত্যাগও চেয়েছে তারা।

ভোটের মাঠ দখল করে জমজমাট প্রচার চালিয়ে আসা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিকরাও হামলা-ভাংচুরের পাল্টা অভিযোগ করেছে বিএনপির বিরুদ্ধে। তাদের কয়েকজনের প্রাণও গেছে প্রতিপক্ষের হামলায়।

ভোটের মাঠে সবাই সমান সুযোগ পাচ্ছে বলে সিইসি কে এম নূরুল হুদা দাবি করে এলেও পাঁচ সদস্যের ইসিতে ভিন্নমত পোষণ করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ব্যবস্থাই তারা নিয়েছে।

সার্বিক প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, আমার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এত দল ও প্রার্থীর নির্বাচনে কিছুটা উত্তাপ থাকলেও কোনো উদ্বেগ নেই।

আমরা আশা করি, নির্বাচনের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা জাতি।

এর পাশাপাশি নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক সব দল সেটা জনগণের রায় হিসেবে মেনে নিতে হবে। ভোটের রায় নিয়ে যেন কোনো সুযোগ সন্ধানী কোনোরকম সহিংসতা বা নাশকতা চালাতে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।

লেখক : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক


%d bloggers like this: