ঢাকা, মঙ্গলবার , ১৬ জুলাই ২০১৯, | ১ শ্রাবণ ১৪২৬ | ১২ জিলক্বদ ১৪৪০

মুঠোফোনে কলড্রপ বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

কলড্রপ বন্ধের জন্য মুঠোফোন কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গ্রাহকদের মতামতের তোয়াক্কা না করে মুঠোফেনে কলচার্জ বৃদ্ধি, কলড্রপে ক্ষতিপূরণ না দেওয়া এবং বিরক্তিকর ক্ষুদেবার্তা প্রেরণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিটটি করা হয়।

রিটে মুঠোফোন ব্যবহারকারীদের অধিকার সুরক্ষায় বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না -এ মর্মে রুল জারি এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে মোবাইল গ্রাহকদের অধিকার তত্ত্বাবধায়ন, পর্যবেক্ষণ এবং সুরক্ষায় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এছাড়া রিটে কলড্রপে গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ ও ক্ষতিপূরণ দিতে কমিটি গঠনের আর্জি জানানো হয়। পাশাপাশি রিটে পুনরায় কলরেট ও অন্যান্য চার্জ বাড়ানো ও মুঠোফোন গ্রাহকদের অনাবশ্যক ক্ষুদেবার্তা প্রেরণে নিষেধাজ্ঞাও চাওয়া হয়।

টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারি, মুঠোফোন অপারেটর গ্রামীণফোন লিমিটেড, এয়ারটেল লিমিটেড, রবি আজিয়াটা লিমিটেড, বাংলা লিংক লিমিটেড ও টেলিটকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

বুধবার (১২ ডিসেম্বর) জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়। রিট আবেদনটি দায়ের করেন আইন সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোটার্স ফোরামের সদস্য এম বদিউজ্জামান, মেহেদী হাসান ডালিম, মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমদ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশিদুল হাসান।

রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, এমনিতেই পাশ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশে মোবাইল কলচার্জ বেশি। এরপরে গ্রাহকের মতামত না নিয়ে চলতি বছরের আগস্ট মাসে অতিরিক্ত কলরেট চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। যা গ্রাহকদের অধিকারের পরিপন্থী ও বেআইনি।

ইশরাত হাসান আরো বলেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ১৩ মাসে ২২২ কোটি বার কলড্রপ করেছে মোবাইল অপারেটরগুলো। এর মধ্যে দেশে গ্রাহক সংখ্যায় শীর্ষে থাকা গ্রামীণফোন কলড্রপের ক্ষেত্রে ও শীর্ষে অবস্থান করছে। গত ১৩ মাসে এ অপারেটরের কল ড্রপ হয়েছে ১০৩ কোটি ৪৩ লাখবার। একই সময়ে গ্রাহক সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রবির কলড্রপ হয়েছে ৭৬ কোটি ১৮ লাখ বার।

সক্রিয়তার বিবেচনায় গ্রামীণফোনের ৭ কোটি ৭ লাখ এবং রবি ও এয়ারটেলের রয়েছে ৪ কোটি ৬১ লাখ সংযোগ। গত ১৩ মাসে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর মোট কলড্রপ হয়েছে ২২২ কোটি বার।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩ মাসে দেশের সব মুঠোফোন অপারেটরের কলড্রপের পরিসংখ্যান নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। প্রতিবেদনে দেখা যায়, গ্রামীণফোন ও রবির পর সবচেয়ে বেশি কলড্রপ হয়েছে বাংলালিংকের ৩৬ কোটি ৫৪ লাখ আর টেলিটকের আনুমানিক ৬ কোটি বার। বাংলালিংকের সংযোগ রয়েছে ৩ কোটি ৩৪ লাখ এবং সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটকের রয়েছে ৩৮ লাখ ৭৩ হাজার সংযোগ।

২০১৪ সালে কয়েকটি অপারেটর কলড্রপের বিপরীতে গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু করে, বিষয়টি নিয়ে তারা প্রচারও চালায়। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই ঘোষণা ছাড়া ক্ষতিপূরণ বন্ধ করে দেয় অপারেটরগুলো। এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এমনকি সরকারের একাধিক মন্ত্রীও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এরপর গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে অপারেটরগুলোর কাছ থেকে কলড্রপের বিপরীতে ক্ষতিপূরণ আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি থেকে কলড্রপের জন্য গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা অপারেটরগুলোর। কিন্তু অপারেটরদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

এ পরিপ্রেক্ষিতে রিট পিটিশনারদের পক্ষ থেকে গত ১০ ডিসেম্বর বিবাদীদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ে নোটিশের জবাব না দেওয়ায় জনস্বার্থে হাইকোর্টে এ রিট করা হয়েছে।


%d bloggers like this: