ঢাকা, সোমবার , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ | ১৩ মুহাররম ১৪৪০

`মোদিকে বলুন হেলিকপ্টার পাঠিয়ে বাঁচাতে’

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় টানা ১০ দিনের বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ৩২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সমীক্ষা বলছে, গত এক শতাব্দীতে এমন ভয়াবহ বন্যার মুখে পড়েনি এ রাজ্য। তিন লাখেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন ত্রাণশিবিরে।

এই অবস্থায় চেনগান্নুরের সংসদ সদস্য সাজি চেরিয়ান বলেছেন, পরিস্থিতি এখানে খুবই ভয়ানক। দয়া করে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বলুন হেলিকপ্টার পাঠিয়ে আমাদের সাহায্য করতে। যদি তা না হয় তবে অনেক মানুষ মারা যাবেন।আমাদের জন্য একমাত্র উপায় হচ্ছে হেলিকপ্টারে করে তুলে নেওয়া। আমাদের সাহায্য করুন, একমাত্র আকাশপথে আমাদের তুলে নিয়ে গেলেই বাঁচানো সম্ভব।

রাজধানী তিরুবনন্তপুরম থেকে ১২০ কিলোমিটার উত্তরে চেনগান্নুর শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আশঙ্কা, সেখানেও অনেকের মৃত্যু হয়েছে বন্যায়। সৈন্য এবং নৌকা শহরে পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্টে বলা হয়েছে যে মৃতদেহও উদ্ধার হয়েছে, যদিও মৃতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি তথ্য মেলেনি।

তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  শনিবার(১৮ আগস্ট) কেরালায় বন্যাদূর্গত অঞ্চলের অবস্থা হেলিকপ্টার থেকে ঘুরে দেখেন। সেই সময়েই পরিস্থিতি বিচার করে ৫০০ কোটি টাকার ত্রাণ বিতরণের ঘোষণা করেন।

সংসদ সদস্য সাজি চেরিয়ান জানান, শহরের ভেতর অন্তত ৫০ জন মানুষ মারা গেছেন। বলতে বলতেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন, সংবাদ মাধ্যমের সামনে ভয়ে আর আতঙ্কে তিনি বারবার অনুরোধ করতে থাকেন হেলিকপ্টার পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার করার জন্য।

তিনি বলেন, আমরা এখানে দরিদ্র জেলেদের কাছ থেকে নৌকা ধার নিয়েছি। আমাদের কাছে যথেষ্ট নৌকাও নেই। জলের স্রোত আরো তীব্র হচ্ছে। অনেক মানুষ ইতিমধ্যেই তাদের জীবন হারিয়েছেন। এখানে আমাদের বাঁচার উপায় নেই। শহরে বসবাসকারী লোকজন এখনো এক প্যাকেট খাবারও পাননি। কেরালার ১৪ জেলার ১১টিতেই জারি করা হয়েছে রেড  অ্যালার্ট।

এদিকে, প্রায় ৩৩ মিলিয়ন জনসংখ্যার রাজ্য কেরালার বন্যায় আটকে পড়া মানুষের মধ্যেও দ্রুত ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া মারফত খবর পাঠাচ্ছেন যে উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করে উঠতে পারছেন না তারা। অনেকেই জানিয়েছেন যে তারা জলমগ্ন মন্দির ও হাসপাতাল আটকা পড়ে রয়েছেন, অনেকে আবার অর্ধেক ডুবে যাওয়া বাড়িতেও আটকা পড়ে আছেন।


%d bloggers like this: