ঢাকা, মঙ্গলবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, | ৭ ফাল্গুন ১৪২৫ | ১৩ জমাদিউস-সানি ১৪৪০

যুক্তরাষ্ট্রে অচলাবস্থা শুরু, বেতন চেয়ে রাস্তায় কর্মচারীরা

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জরুরি অবস্থা জারির হুমকির মধ্যেই অচলাবস্থা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। অচলাবস্থা অবসানে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দেশটির সরকারি কমীর্রা।  শুক্রবার(১১ জানুয়ারি) বেতন চেয়ে স্লোগান দিয়ে হোয়াইট হাউস অভিমুখে মিছিল বের করেন তারা।  তবে কেন্দ্রীয় সরকারের অচলাবস্থার কারণে দেশটির আট লাখ সরকারি কর্মচারিকে ঘরে থাকতে কিংবা বেতন ছাড়া কাজ করতে বলা হয়েছে।

পেনিসেলভেনিয়া এভিনিউয়ের সামনে জড়ো হয়ে আন্দোলনকারীরা সংকট নিরসনের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের হাতে ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ট্রাম্প: শাটডাউন বন্ধ করুন’ অবরোধ নয়, কাজ চাই আমরা।

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নিমাের্ণ বরাদ্দ অনুমোদনের প্রশ্নে ট্রাম্পের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সমঝোতা না হওয়ায় ২০ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারে চলছে আংশিক শাটডাউন। এরপরও দেয়াল নিমাের্ণর প্রশ্নে অনড় অবস্থানে রয়েছেন ট্রাম্প। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ (প্রতিনিধি পরিষদ) এখন ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে। সম্প্রতি প্রতিনিধি পরিষদ একটি বাজেট বিল পাস করলেও এতে মেক্সিকো সীমান্তের জন্য তহবিল বরাদ্দ রাখা হয়নি।

পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার বিজ্ঞানী ইলাইনি সুরাইনো বলেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে তাকে অবসরে যেতে হবে। তিনি বলেন, এটা স্পষ্ট যে, প্রশাসন সাধারণ মানুষের জীবনের ওপর এর প্রভাব বোঝেন না। না হলে এমনটা করতেন না।

শান্তি করপোরেশনের কর্মী ম্যাথিউ ক্রিচটন বলেন, শাটডাউন কতদিন চলবে, এর নিশ্চয়তা না থাকায় তারা কোনো খাবারসহ অন্যান্য কোনো পরিকল্পনা করতে পারছেন না। তিনি বলেন, এটা একদিনও হতে পারে কিংবা এক সপ্তাহ। এটা খুবই লজ্জার যে, আমি কাজ করতে সক্ষম, কিন্তু করতে পারছি না। আন্দোলনকারীদের বেশিরভাগই সবুজ পোশাক পরা ছিল এবং ব্যানারে লেখা ছিল, ‘আমি কমীর্, আমি কথা বলতে চাই’।

এ ছাড়াও, পাম বিচ, ফ্লোরিডা ও নিউইয়কের্ও এমন আন্দোলনের খবর পাওয়া গেছে। তবে হোয়াইট হাউসের সামনে আন্দোলনের সময় ট্রাম্প সেখানে ছিলেন না। সে সময় ট্রাম্পও মেক্সিকো সীমান্ত পরিদশের্ন গিয়েছিলেন। সেখানে জরুরি অবস্থা জারির হুমকিও দেন তিনি। জানিয়ে দিয়েছেন, অচলাবস্থা দীঘাির্য়ত হলেও মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নিমাের্ণর সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসবেন না। সবের্শষ বুধবার ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বৈঠককে ‘সময় নষ্ট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। এক টুইটে তিনি জানান, ডেমোক্র্যাটদের ‘বাই-বাই’ বলতে হয়েছে তাকে।

উল্লেখ্য, মাকির্ন অথর্বছর শুরু হয় ১ অক্টোবর। এর আগেই বাজেট অনুমোদন করিয়ে নেয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও সমঝোতার অভাবে কখনো কখনো মাকির্ন কংগ্রেস সেটা পাস করাতে ব্যথর্ হয়। এমন অবস্থায় অস্থায়ী বাজেট বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সরকার পরিচালনার তহবিল জোগান দেয়া হয়। অস্থায়ী এই বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে দুইকক্ষের অনুমোদনসহ প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পযর্ন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের তিন চতুর্থাংশ কাযর্ক্রম পরিচালনার অথর্ বরাদ্দ করা আছে। বাকি এক চতুর্থাংশের বাজেট ফুরিয়ে যাওয়ায় অচলাবস্থা ঠেকাতে গত ২১ ডিসেম্বর নতুন অস্থায়ী বাজেট বরাদ্দ ছিল অপরিহার্য। তবে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নিমাের্ণর বরাদ্দ প্রশ্নে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় সৃষ্টি হয় ‘অচলাবস্থা’।

বরাদ্দ কম পড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ১৫টি কেন্দ্রীয় দপ্তরের মধ্যে ৯টিতে আংশিক শাট ডাউন শুরু হয়। শাট ডাউনের অবসানে গত বুধবার আবারও ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ডেমোক্র্যাটরা। বৈঠকের পর ন্যান্সি পেলোসি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আরও একবার রিপাবলিকানদের সম্মতিসূচক উত্তর দেয়ার সুযোগ দিয়েছিলাম।

কিন্তু ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নিমার্ণ করতে ৫৬০ কোটি ডলারের দাবি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

আজ ২৪ বিদেশ ডেস্ক


%d bloggers like this: