ঢাকা, সোমবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, | ৩ পৌষ ১৪২৫ | ৯ রবিউস-সানি ১৪৪০

যুক্তরাষ্ট্রে নবজাতক নামকরণ অনুষ্ঠানে ইহুদি উপাসনালয়ে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ১১

যুক্তরাষ্ট্রের পেনিসেলভেনিয়ায় এক ইহুদি উপাসনালয়ে নবজাতক নামকরণ অনুষ্ঠানে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। প্রাথমিকভাবে হতাহতের কথা জানা না গেলেও পরে ১১ জনের কথা নিশ্চিত করেন কর্মকর্তারা। হামলাকে প্রাথমিকভাবে ‘জাতিবিদ্বেষ’ অপরাধের একটি উদাহরণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। গুলিবিদ্ধ শ্বেতাঙ্গ হামলাকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, বার বার একই ঘটনা লজ্জাজনক উল্লেখ করলেও অস্ত্র আইনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবী করেছেন। অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অস্ত্রের সহজলভ্যতাকে দায়ী করেছেন। পাশাপাশি যেকোনো ধরণের জাতিবিদ্বেষের প্রতি রুখে দাড়ানোর আহ্বাণ জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুইরেল হিলের ওই ইহুদি উপাসনালয় সিনাগগে সেসময় অনেক মানুষ ছিলো। পেনিসেলভেনিয়ার এই অঞ্চলেই ইহুদি বসবাস বেশি।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ নিহতদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করে জানায়নি। হামলাকারীর আনুষ্ঠানিক পরিচয়ও এখনও জানানো হয়নি। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে তার নাম রবার্ট বাওয়ার্স, বয়স ৪৬।

হামলাকারীকে পুলিশের হেফাজতে চিকিতসা দেওয়া হচ্ছে। পিটসবার্গে জননিরাপত্তা বিষয়ক পরিচালক ওয়েন্ডেল হিসরিচ বলেন, ‘এটা খুবই ভয়াবহ দৃশ্য ছিলো। আমার দেখা জঘন্যতম একটি। আমি বিমান দুর্ঘটনা নিয়েও কাজ করেছি। কিন্তু এটার খুবই ভয়াবহ ছিলো।’ হিসরিচ বলেন, ঘটনাটি ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ হিসেবে তদন্ত করা হবে।

স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় জরুরি উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছায়। সেখানে সোয়াট ও অ্যাম্বুলেন্স অবস্থান নেয়।

হামলাকারী রবার্ট বাওয়ার্স

সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, হামলাকারী শেতাঙ্গ ব্যক্তি ছিলেন। তার মুখে দাঁড়ি ছিলো। তার কাছে দুটি পিস্তল ও একটি রাইফেল ছিলো। হামলার সময় সে চিতকার করে বলছিলো, সব ইহুদিকে মরতে হবে। ইহুদি বেসরকারী সংস্থার এন্টি ডিফেমেশন লিগ জানায়, আমেরিকার েইতিহাসে ইহুদিদের ওপর এটি ভয়াবহতম বিদ্বেষমূলক হামলা।

পেনিসেলভিনিয়া গভর্নর টম ওলফ এক বিবৃতিতে বলেন, এমন ঘটনাকে কোনোভাবে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া যায় না।’ স্থানীয় পিটসবুর্গ এফবিআই বিশেষ এজেন্ট বব জোনস এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলাকারী অনুষ্ঠানের আয়েঅজকদের কারো পরিচিত নন। তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে। সে একাই ছিল বলে আমরা মনে করছি। হামলাকারীল জীবনের সব দিক খতিয়ে দেখবো আমরা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে ভয়াবহ উল্লেখ করে বলেন, ‘বারবার এমন ঘটনা দেখা লজ্জাজনক।’ তিনি হামলাকারীকে পাগল বলে উল্লেখ করেন। তবে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র আইনের কোনও সম্পর্কে নেই বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অবস্থান বর্তমান প্রেসিডেন্টের বিপরীতে দেখা যায়। তিনি এক টুইট বার্তায় যে কোন ধরণের জাতিবিদ্বেষ এবং অস্ত্রের সহজলভ্যতার বিপীরতে দাড়াতে সবাইকে আহ্বাণ জানান।


%d bloggers like this: