ঢাকা, শনিবার , ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, | ৬ মাঘ ১৪২৫ | ১২ জমাদিউল-আউয়াল ১৪৪০

রোগীর চাপ সামলাতে হিমসিম পঙ্গু হাসপাতালের!

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর, পঙ্গু হাসপাতাল) জরুরি বিভাগে রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। হাসপাতালটিতে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এত চাপ সামলাতে হিমসিম হচ্ছে ডাক্তার ও নার্সদের।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গেল বছরের প্রথম চার মাসে চিকিৎসা নিতে আসা এবং ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে। জানুয়ারিতে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্য ছিল ৪ হাজার ১শ ২ জন। অর্থাৎ মাসটিতে প্রতিদিন গড়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৩২ জন। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর মধ্যে ভর্তি করা হয় ১ হাজার ৬শ ২০ জনকে। সে হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হয়েছেন ৫২ জন।

ডাক্তার ও নার্সদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, অস্ত্রোপচারের রোগীর চাপ বেশি। অস্ত্রোপচার কক্ষের সামনে পা ফেলার জো নেই। কেউ মাটিতে, কেউ ট্রলিতে কেউবা আবার নার্সশূন্য কক্ষের ভেতরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা চেয়ারে বসে অস্ত্রোপচারের জন্য ডাক্তারের ডাকের অপেক্ষা করছেন।

জরুরি বিভাগ থেকে রেফার হয়ে বেশ লম্বা বারান্দাপথ পাড়ি দিয়ে ওটির সামনে আসলে ওয়ার্ডবয়রা ফাইল ভেতরে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর সিরিয়াল না মেনেই কাউকে ডেকে নিচ্ছেন, আবার কাউকে অপেক্ষা করতে বলছেন। কেউ কেউ ঘনঘন বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছেন ওষুধ ও ইনজেকশন কিনে আনতে।

রোগীদের ট্রলিতে ঠেলে যারা নিয়ে আসছেন তারা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বকশিস না দিলে সেখান থেকে যাচ্ছেন না। টাকার পরিমাণ পছন্দ না হলে উল্টো দু-চার কথা শুনিয়ে দিচ্ছেন।

জরুরি অস্ত্রোপচার কক্ষটির বাইরে দুটি টয়লেট থাকলেও তা ব্যবহারের অনুপযোগী। টয়লেটে উপচে ময়লা পানি পড়ছে। একটিতে ছিটকিনি নেই।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রোগীর অভিভাবক জানান, রাতে ডাক্তার তার রোগীকে ওটিতে নিতে বলেন। তাকে ডেকে একটি স্লিপ লিখে ব্যান্ডেজ কিনে আনতে পাঠান।

প্রাথমিক অস্ত্রোপচার শেষে ভাঙা হাত জায়গামতো বসেছে কি না তা এক্সরে করে দেখতে জরুরি বিভাগের সামনের এক্সরে বিভাগে পাঠান। এক্সরে যিনি করছিলেন তিনি সাড়ে ৩০০ টাকা চান।

রশিদ চাইলে তিনি সামনের কাউন্টার থেকে আনতে বলেন। এ সময় কাউন্টারের লোকটি ২৫০টাকা রাখেন। ভেতরে গিয়ে সাড়ে ৩০০ টাকা চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।

এক্সরে ফ্লিম নিয়ে ফিরে আসলে ডাক্তার জানান, রোগীকে রাতে থাকতে হবে। সিট খালি নেই। কিছুক্ষণ পর এক ওয়ার্ডবয় জানান, দুই হাজার টাকা দিলে মহিলা ওয়ার্ডে সিট দেওয়া যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক বলেন, জরুরি অস্ত্রোপচার কক্ষে রোগীদের অতিরিক্ত চাপ থাকে। তারা রোগীদের দিয়ে পারত পক্ষে কোনো ওষুধপত্র কিনিয়ে আনেন না। কিন্তু ওয়ার্ডবয়সহ দালালরা সিন্ডিকেট করে রোগীদের নানাভাবে প্রতারণায় ফেলেন, ওষুধপত্র কিনিয়ে আনেন, বকশিসের নামে নগদ টাকা নেন বলে আমরাও অভিযোগ পাই।

আজ ২৪ প্রতিবেদক, ঢাকা


%d bloggers like this: