ঢাকা, সোমবার , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ | ১৩ মুহাররম ১৪৪০

রোহিঙ্গা বিষয়ক প্রশ্নে বিজিপি বলল ‘অবজেকশন’

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) যৌথ প্রেসব্রিফিংয়ে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ক্ষেপে উঠে ‘অবজেকশন’ বলেছেন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিজিপি’র কর্মকর্তারা। প্রশ্ন শুনেই ‘অবজেকশন’ বলে দাঁড়িয়ে যান মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) প্রতিনিধি দলের একাধিক সদস্য। তারা এই বিষয়ে কোনও কথা না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। একই সঙ্গে প্রশ্নটি ‘আউট অব অ্যাজেন্ডা’ বলে উল্লেখ করেন বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনিছুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এমন প্রতিক্রিয়া দেখান মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এই সীমান্ত সম্মেলনে দুই দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুটি অনেক বড় বিষয়। এটা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে।’
৯ জুলাই থেকে ১২ জুলাই ঢাকায় এ সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বিজিপির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মায়ো থানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এবং বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন।

লিখিত যৌথ বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সম্মেলনের পূর্বনির্ধারিত আলোচ্য বিষয়গুলো নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সম্মেলনে উত্থাপিত বিষয়গুলোর মধ্যে মাদকদ্রব্য, বিশেষ করে ইয়াবার ব্যাপকতার বিষয়ে উভয় পক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সীমান্ত সম্মেলনে সম্প্রতি মিয়ানমারের নাগরিকদের সীমান্ত অতিক্রমসহ সীমান্তে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি বন্ধে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ বিষয়ে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সীমান্তে মাদক, অস্ত্র, নারী ও শিশু পাচারসহ সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সমন্বিত যৌথ টহল, সীমান্তে নজরদারি ও অন্যান্য তৎপরতা বৃদ্ধি, উভয় পক্ষের মাঠপর্যায়ের অধিনায়কদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা এবং সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষায় পরস্পরের মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্যবিনিময়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
সীমান্তে মাইন বা আইইডি অপসারণ প্রসঙ্গে উভয় পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করে এবং মিয়ানমার পক্ষ এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে সম্মত হয়েছে।
উভয় পক্ষই বর্ডার লিয়াজোঁ অফিসের কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। এ প্রসঙ্গে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মংডুতে ইতোমধ্যে একটি বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করা হয়েছে। বিজিবি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, টেকনাফ উপজেলায়ও অনুরূপ একটি বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করা হয়েছে, যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
এই সীমান্ত সম্মেলন ফলপ্রসূ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উভয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। উভয় পক্ষ সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সিনিয়র পর্যায়ের পরবর্তী সীমান্ত সম্মেলন মিয়ানমারের নেপিতোতে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।


%d bloggers like this: