ঢাকা, সোমবার , ২২ অক্টোবর ২০১৮, | ৭ কার্তিক ১৪২৫ | ১২ সফর ১৪৪০

রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য মিয়ানমারেও বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা শিশুরা যাতে আগের মত শিক্ষাসহ অন্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না থাকে, সেজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারেও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ‘ইনভেস্টমেন্ট ফর এডুকেশন অব উইমেন অ্যান্ড গার্ল’ শীর্ষক এক আলোচনায় এ আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, সেজন্য ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমি মিয়ানমারে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি, যেন এই শিশুরা সেখানে ফিরে যাওয়ার পরে শিক্ষাসহ সব অধিকার পায়। এ শিক্ষা তাদের আসল পরিচয় রক্ষায় সহায়ক হবে। নিজের দেশে ফেরার জন্য তারা নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে বহু মানুষ সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থার কারণে অনেকেই নিজের দেশ থেকে উৎখাত হচ্ছে। সাড়ে ছয় কোটির বেশি মানুষ নিজের ভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছে এবং প্রতিদিন এই সংখ্যা বাড়ছে। এদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এই উদ্বাস্তু এবং বলপূর্বক বিতাড়িত মানুষের বিষয়টি সংবেদনশীল এবং স্পর্শকাতর। তারা হতাশ, নিপীড়িত। সহিংসতা ও অত্যাচারের ভয়ানক অভিজ্ঞতা তারা বহন করছে। এদের মধ্যে অনেকেই নিজের দেশে কয়েক দশক ধরে অত্যাচার ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে।”

বাংলাদেশের মানুষকে ‘শান্তিপ্রিয়’ হিসাবে বর্ণনা করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, তার বাবা, বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহিংসতা, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন আজীবন। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের এখন অন্য দেশের নৃশংসতার ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত এগারো লাখ মানুষ এখন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। যে মাটিতে শত শত বছর ধরে তারা বসবাস করে আসছিল,সেখান থেকে তাদের পালিয়ে আসতে হয়েছে সহিংসতা আর গণহত্যা থেকে বাঁচার জন্য।

রোহিঙ্গারা যে কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের শাসকদের বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রনীতির শিকার হয়েছে, সে কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও চলাচলের স্বাধীনতা থেকে তারা বঞ্চিত। এমনকি তাদের নাগরিকত্বও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে যে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়ে আছে, তাদের প্রায় ৫৫ শতাংশই শিশু বলে আলোচনায় তথ্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা নতুন শিক্ষা কেন্দ্র খোলা এবং শিশুদের খেলনা বিতরণের কাজ অব্যাহত রেখেছি। আমাদের মনে রাখতে হবে সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা শিশুরা ভয়ানক অবস্থায় রয়েছে। তাদের বিশেষ মনোযোগ প্রয়োজন।

আজ ২৪ ডেস্ক


%d bloggers like this: