ঢাকা, বুধবার , ২৪ জুলাই ২০১৯, | ৯ শ্রাবণ ১৪২৬ | ২০ জিলক্বদ ১৪৪০

শহীদ কাপুরের বড় ডিজাইন অভিষেক

সম্প্রতি শহীদ কাপুর তার ফ্যাশন ব্র্যান্ড স্কাল্ট এর যাত্রা শুরু করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি যা বললেন:
একটি পোশাক লাইন কি সবসময়ই আপনার পরিকল্পনার অংশ ছিল?
সত্যি বলতে কি আমি কখনো ভাবিনি আমি এটা করতে সক্ষম। আমার প্রজন্মের মানুষেরা কিশোর বয়সে ইন্টারনেট দেখেননি। ফলে আমরা টেলিভিশন এবং সিনেমাতে কোনো কিছু দেখে পছন্দ করিনি এবং ভাবিনি “আমাকে কখনোই এমনটা দেখাবে না।”
ওই অনুভূতি আমার মাঝে আটকে ছিল। আর আমি এ ব্যাপারে কিছু করতে চেয়েছি। কিন্তু আমার কোনো বুঝ ছিল না কখন এবং কীভাবে করতে হবে। ক্যারিয়ারের প্রথমদিকে আমি ছিলাম একজন ফ্যাশন ভিকটিম যে জানতো না কী পরতে হবে। গত কয়েক বছরে অবশেষে আমি নিজের পছন্দের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হয়েছি। আর আমি এখন নিজের শপিং নিজেই করতে পারি এবং সবকিছু তালমিলিয়ে করতে পারি। আমি এও লক্ষ্য করেছি আমি কী পরি না পরি এবং তা কোথা থেকে এসেছে সে ব্যাপারে লোকের মাঝে অনেক কৌতুহল রয়েছে। সুতরাং গত বছর যখন অ্যাবুফডটকম আমার কাছে আসে আমি কী চাই সে ব্যাপারে আমি খুবই পরিষ্কার ছিলাম।
আর আপনি কী চেয়েছেন?
অ্যাথলেইজার ক্যাটেগরি হিসেবে প্রচুর আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এটি নিয়ে আপনি অনেক কিছুই করতে পারবেন। এটি নিষেধাত্মক নয়। একই সময়ে আমি নাচছি এবং প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। আর আমার অনুভূতি হচ্ছিল আমি যেসব বানিয়েছি তা ১৬ বছর আগে আমি যেমন ছিলাম তেমন কারো জন্য।

এটি খুবই আকর্ষণীয়, সহজ, প্রাকৃতিক সংগ্রহ যা বাস্তবিকই যে কোনো জায়গায় পরা সম্ভব। আমার আকাঙ্খা ছিল স্কাল্টকে পুরোপুরি আমার ওপর নির্ভরশীল না করা। আমি আশা করেছিলাম পোশাকই ব্র্যান্ডটির মনোযোগের কেন্দ্রে থাকবে। আর ভালো বলেই লোকে স্কাল্ট এর পোশাকগুলো কিনবে। আর অবশ্যই, এর সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা প্রাথমিক কৌতুহল সৃষ্টি করবে। কিন্তু এরপর আমি চেয়েছিলাম আমার ব্র্যান্ডের পোশাকগুলো স্ব-গুনেই লোককে আকৃষ্ট করবে।
আপনার সংশ্লিষ্টতার ব্যাপ্তি কতটুকু?
আমি মনে করিনা এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে আমি সংশ্লিষ্ট ছিলাম না। আমি স্কাল্ট এর ব্যাপারে খুবই আবেগী ছিলাম। অ্যাবুফডটকমে গত বছর এই লোকদের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়। আর তারাও এটা জেনে সুখি হয়েছিল যে, আমি ব্যান্ডটির প্রধান মুখ হতে চাই না।
আমি কখনোই জানতামনা ভারতের কোথায় এমন সব জিনিস পাওয়া যায়। সুতরাং আমি সবসময়ই এমন কিছু করতে চাইতাম যা হবে আকর্ষণীয় এবং প্রাসঙ্গিক। যা সহজেই ভারতে প্রবেশযোগ্যও বটে। আমরা কার্যকারিতা, গতিবিধি এবং এখনকার বাচ্চারা কী করে রুটিন স্টাফ চায়না সে ব্যাপারে কথা বলতে শুরু করি। এদের সবগুলোই অভিব্যক্তি প্রকাশের বুৎপত্তিগত রুপ। এই চিন্তাগুলোই স্কাল্টে ভাষান্তরিত হয়েছে।

আপনি এমন কোন ব্র্যান্ডের পোশাক পরতে পছন্দ করতেন, যা হয়তো অবচেতনে স্কাল্টকে প্রভাবিত করেছে?
আমি প্রচুর সংখ্যক আসন্ন এবং কম জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের পোশাক পরতাম। যার অনেকগুলো এমনকি ভারতে পাওয়া যেত না। নরওয়ে এবং স্ক্যান্ডেনেভিয়া থেকে আমার জন্য পোশাক আসত। আমি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে এবং অনলাইনে অর্ডার করতে পছন্দ করতাম; এমনকি যদিও আমি ব্র্যান্ডটি চিনতাম না।
প্রথমদিকে, আমি অল সেইন্টস, আরবান আউটফিটারস, টপশপ, জি স্টার র এর পোশাক পরতাম প্রচুর। এছাড়া প্রচুর সংখ্যক ক্ষুদ্র ব্র্যান্ডও আমাকে প্রভাবিত করেছে। আমি জীবনে যে প্রচুর জিনিস দেখেছি তার একটি সংমিশ্রন এটি।
এরপর স্কাল্টকে নিয়ে আর কী পরিকল্পনা আছে?
আমরা প্রতি মৌসুমেই নতুন নতুন কালেকশন জড়ো করার চেষ্টা করি। বছরে অন্তত চারটি কালেকশন। স্কাল্ট এমন এক শক্তি যা যে কোনো কিছুতে প্রসারিত হতে পারে। সুতরাং আমাদের পণ্যের পরিসর অ্যাকসেসরিজ এবং জুতা পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে। ভারতে এ পর্যন্ত যত ফ্যাশন ব্র্যান্ড এসেছে তার মধ্যে আমদের এই কালেকশন একদমই আলাদা। সুতরাং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো লোকে কীভাবে এর প্রতি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কীভাবে এর পণ্য কিনেন। ওই ফিডব্যাকের ওপরি ভিত্তি করে রাউন্ড ২, ৩, ৪ এ যাবো আমরা।
সূত্র: মেনস ওয়ার্ল্ড ইন্ডিয়া


%d bloggers like this: