ঢাকা, রবিবার , ১৮ নভেম্বর ২০১৮, | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ৯ রবিউল-আউয়াল ১৪৪০

শেষ মুহুর্তের গোলে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে হারল আর্জেন্টিনা

শেষ মুহুর্তের গোলে প্রীতি ম্যাচে মেসিবিহীন আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছে নেইমারের ব্রাজিল। সৌদি আরবে কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ম্যাচ প্রীতি হলেও তাতে ঝাঁজ ছিল অন্য রকম। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের লড়াই দেখতে গ্যালারি ভরে ছিল হাজরো দর্শক। তারা যখন গোলশূন্য ড্রয়ের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখন ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে মিরান্দার গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তিতের ব্রাজিল।

গত বছর মেলবোর্নে সুপার ক্লাসিকোতে একই ব্যবধানে হারে ব্রাজিল। বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নেওয়ার পর পাঁচবারের বিশ্ব সেরা ব্রাজিল টানা চতুর্থ ম্যাচ জিতে সেই হারের প্রতিশোধ নিলো।

প্রথমার্ধ দুই দলের কেউই সেভাবে সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। আর্জেন্টিনার পক্ষে ৮ মিনিটে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর কাছ থেকে বল পেয়ে প্রথম শট নিয়েছিলেন জিওভানি ল চেলসো। সেটা গোলবারের পাশ দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

ব্রাজিল আধঘণ্টা না হতেই এগিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু ২৮ মিনিটে দারুণ চেষ্টায় আর্জেন্টিনাকে উদ্ধার করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। নেইমারের ফ্রি কিক আর্জেন্টিনা বিপদমুক্ত করলেও কাসেমিরো আবার বক্সের মধ্যে বল পাঠান। ব্যাকপোস্টের কাছ থেকে শট নেন মিরান্দা। গোললাইনে দাঁড়িয়ে সেটা রুখে দেন ওতামেন্দি।

দুই মিনিট পর আর্জেন্টিনা লক্ষ্যের খুব কাছে গিয়েছিল। পাউলো দিবালার ফ্রি কিক গোলপোস্টের খানিকটা পাশ দিয়ে চলে যায়। ৪০ মিনিটে দুজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ছুটতে থাকা নেইমারকে থামান ওতামেন্দি। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে আবারও আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগে আটকা পড়েন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের খোঁজে মরিয়া ছিল দুই দল। আর্জেন্টিনা তাদের প্রথম পরিবর্তন আনে ৫৮ মিনিটে। দিবালা জায়গা করে দেন লতারো মার্তিনেসকে। ৬০ মিনিটে আর্জেন্টিনা আক্রমণে গিয়েছিল। লিয়ান্দ্রো পারাদেসের ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া শট ব্রাজিল গোলরক্ষক আলিসনকে শঙ্কায় ফেলতে পারেনি। পরের মিনিটে ল চেলসোকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন মারকুইনহোস।

৬৫ মিনিটে গাব্রিয়েল জেসুসের বদলি হয়ে মাঠে নামেন রিচার্লিসন। দুই মিনিট পরই ব্রাজিলকে এগিয়ে দেওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। নেইমারের ক্রস ব্যাকপোস্টে পেয়েও গোলবারের পাশ দিয়ে শট নেন রিচার্লিসন।

ব্রাজিল আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ পায় ৭০ মিনিটে। নেইমার বল বাড়িয়ে দেন বক্সের মাঝখানে। আর্থার জোরালো শট নিয়েছিলেন লক্ষ্যে, কিন্তু আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক সের্হিয়ো রোমেরো বাধা হয়ে দাঁড়ান। ৭৭ মিনিটে নেইমারের দুর্বল ফ্রি কিক ক্রসবারের উপর দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে রিচার্লিসনকে আবার প্রতিহত করেন ওতামেন্দি।

৯২ মিনিটেও ম্যাচের স্কোর পাল্টায়নি, তাই নিষ্প্রাণ ড্রয়ের আভাস দিচ্ছিল ম্যাচটি। কিন্তু বারবার আক্রমণে গিয়েও ব্যর্থ হওয়া ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়ায় ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে। কর্নার থেকে নেইমারের ক্রস একেবারে কাছের পোস্টে পান মিরান্দা, তার দুর্দান্ত হেড এবার ঠেকাতে পারেননি রোমেরো।
একমাত্র লক্ষ্যভেদী শট গড়ে দেয় চলতি বছরে দুদলের একমাত্র সুপার ক্লাসিকোর পার্থক্য।


%d bloggers like this: