ঢাকা, সোমবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, | ৩ পৌষ ১৪২৫ | ৯ রবিউস-সানি ১৪৪০

শেষ হলো প্রধানমন্ত্রীর ৭১টি প্রতিকৃতি নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী, ড. কামালের শাস্তি দাবী

বিশেষ প্রদর্শনী

দু্ই দফা সময় বাড়ানো প্রধামন্ত্রীর ৭১টি প্রতিকৃতি নিয়ে ১৭ দিনের বিশেষ প্রদর্শনী শেষ হয়েছে। সমাপনী দিনে ড. কামাল হোসের বিচার দাবী করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য। তিনি বলেছেন,  কামাল হোসেন যে স্পর্ধা দেখিয়েছেন তার বিচার চাই। আইনী ভাবেই তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। রাজধানীতে গবেষণামূলক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘হাসুমণির পাঠশালা’র প্রথম বর্ষপ‚র্তিতে এমনটি বলেছেন  তিনি।

প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার ৭১ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কর্মশালায় আঁকা ৭১ টি প্রতিকৃতি ও জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী সুঁচিশিল্প প্রদর্শনী শেষ হয়েছে আজ। আজ রবিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শনীটির সমাপনী অনুষ্ঠান হয়। এই বিশেষ প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়াদুল কাদের এম পি। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ সামাদ, বরেণ্য শিল্পী অধ্যাপক জামাল আহমেদ ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী।

প্রধান অতিথির সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হাসুমণি’র পাঠশালার আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা কওে বলেন, এমন এক্সট্রাঅর্ডিনারী আয়োজন সারাদেশে ছড়ানো উচিত। জামালপুরের তৃণমূলের যেসব নারীরা সূচীশিল্পের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তুলে ধরেছেন তা অকল্পনীয়। তাদেও হৃদয়ের কত গভীওে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং শেখ হাসিনার অবস্থান তা এই শিল্পকর¥গুলো দেখলে অনুধাবণ করা যায়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো উপচার্য ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়ে যে ধৃষ্টতামূলক বক্তব্য ড. কামাল করেছেন তার শাস্তি হওয়া উচিত। তাকে আইনীভাবে এবং অন্যান্য সব উপায়ে মোকাবেলার প্রস্তুতি রাখতে হবে।
বঙ্গবন্ধু পার্টি অফিসে হামলার প্রচেষ্টা নেতাকর্মীদের নিয়ে খাওয়া ছেড়ে উঠে এসে মোকবেলা করেছেন জানিয়ে প্রো উপাচার্য বলেন, স্বাধীনতার পক্ষের সবাইকে তেমনি প্রস্তুত থাকতে হবে। ১৯৮১ সালে শত বাঁধা ঠেলে বঙ্গবন্ধু কন্যার দেশে ফিরে আসার এবং স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণের শপথের কথা মনে করে আবেগী বর্ননা দেন অধ্যাপক সামাদ। পরে নিজের লেখা ’ভূমিকন্যা’ পাঠ করে শোনান প্রো-উপাচার্য।

উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে নবীণ-প্রবীণ শিল্পীদের আঁকা প্রধানমন্ত্রীর ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ৭১টি আঁকা প্রতিকৃতি ও জামালপুরের ১০১টি সুচিশিল্প নিয়ে এ প্রদর্শনী শুরু হয়েছিল। এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এম পি ও প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান ন‚র এম পি । বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যৌথভাবে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে হাসুমণির পাঠশালা ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর।

উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে শেখ হাসিনার ৭১ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে হাসুমণির পাঠশালা বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে প্রতিকৃতি অংকন কর্মশালা ও ৭১ ফুট ক্যানভাসে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ‘হাসুমণির বাংলাদেশ’ সহ জন্মোৎসব আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে হাসুমণির জন্মদিনের কেক কাটেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম এনডিসি, দেশবরেণ্য শিল্পী মণিরুজ্জামান সহ বিশিষ্টজনেরা। একই সংঙ্গে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সোনার বাংলাদেশ শীর্ষক হস্তশিল্প প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহনকারী জামালপুরের ১০০১ জন সুচিশিল্পী তাদের শিল্পকর্ম জামালপুরে জমা দেন।

এই জন্মোৎসব আয়োজন প্রধান হাসুমণির পাঠশালা’র সভাপতি মারুফা আক্তার পপি জানান, ‘হাসুমণি’ শব্দটা বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের প্রতীকী শব্দ। বঙ্গবন্ধু তার বড় মেয়ে শেখ হাসিনাকে আদর করে ‘হাসুমণি’ বলে ডাকতেন। যেমনটি বাংলার ঘরে ঘরে প্রতিটি বাবা-মা তাদের প্রাণপ্রিয় সন্তানকে আদর করে সোনামণি বা যাদুমণি বলে ডাকেন।
শেখ হাসিনার জন্মদিনের এ আয়োজনে ৭১টি প্রতিকৃতি প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন কর্মশালা এবং ৭১ ফুট ক্যানভাসে খুদে শিল্পীরা আঁকছে ওদের স্বপ্নের সোনার বাংলা ‘হাসুমণির বাংলাদেশ’।

সময় বাড়ানো নিয়ে মারুফা আক্তার পপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭১টি প্রতিকৃতি ও জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী সুঁচিশিল্প নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর শেষ সময় ছিল ১৮ অক্টোবর। দর্শকদের বিপুল আগ্রহের জন্য দুই দফায় এর সময় বাড়ানো হয়েছে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত ছিল।


%d bloggers like this: