ঢাকা, রবিবার , ১৮ নভেম্বর ২০১৮, | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ৯ রবিউল-আউয়াল ১৪৪০

শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা মামলায় ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

চাঞ্চল্যকর শোলাকিয়া জঙ্গি হামলা মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে (১২ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটে শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় ২৪ জনের সম্পৃক্ততা উল্লেখ করা হয়। তাদের মধ্যে অভিযুক্ত ১৯ জন বিভিন্ন সময় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বাকি পাঁচজনকে চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হচ্ছে- কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিম তারাপাশা এলাকার জাহিদুল হক তানিম, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাঘবপুর এলাকার জঙ্গি নেতা জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, শিবগঞ্জের হাজারদিঘা গ্রামের মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, নিহত জঙ্গি শফিউলের বাড়িওয়ালা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের পান্থাপাড়ার আনোয়ার হোসেন এবং কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সাদিপুর কাবলিপাড়ার জঙ্গি নেতা মো. আবদুস সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল মাহফুজ। অভিযুক্ত এই পাঁচজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়া হামলার দুই বছরেরও বেশি সময় পর এই চার্জশিট দেওয়া হলো।

বুধবার বিকেলে পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে জানান, শোলাকিয়া জঙ্গি হামলার মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা। এর তদন্তে পুলিশকে নিবিড়ভাবে কাজ করতে হয়েছে। চেকপোস্টে জঙ্গি হামলার ঘটনার নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড, পরিকল্পনাকারী, পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী, অর্থ ও অস্ত্রদাতা এবং সহযোগীদের ব্যাপারে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করতে হয়েছে। এসব কারণে মামলাটির চার্জশিট তৈরিতে কিছুটা সময় লেগেছে।

চার্জশিটে বলা হয়, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে টাঙ্গাইলে অভিযানে নিহত মাহফুজুর রহমান বিজয় ওরফে সুজনের ভাড়াটিয়া বাসায় শোলাকিয়া জঙ্গি হামলার বিষয়ে একটি বৈঠক হয়। পরে ২০১৬ সালের ২৪ জুন রাজধানীর বসুন্ধরায় অ্যাপোলো হাসপাতালের পেছনে তানভীর কাদেরীর বাসায় হামলার পরিকল্পনা হয়।

ওই পরিকল্পনায় রাজীব গান্ধী, তামিম চৌধুরী, সারোয়ার জাহান, নূরুল ইসলাম মারজান, বাশারুজ্জামান চকলেট, তানভীর কাদেরী, খাইরুল ইসলাম ওরফে বাঁধন ওরফে পায়েল, শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ওরফে বিমল ওরফে নাহিদ, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিব্রাস ইসলাম, মীর সামেহ মোবাশ্বের ও মেজর জাহিদ উপস্থিত ছিল।

হামলার তিন দিন আগে ৪ জুলাই মিরপুর শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় নূরুল ইসলাম মারজান, সারোয়ার জাহান ওরফে আবদুর রহমান ও রাজীব গান্ধী এই তিন জঙ্গি শোলাকিয়া হামলার বিষয়ে আরও একটি পরিকল্পনা মিটিং করে। ওই মিটিংয়েই শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদকে হত্যা করা হবে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়।

চার্জশিটে আরো উল্লেখ করা হয়, শোলাকিয়া হামলায় খরচের সব টাকা হুন্ডির মাধ্যমে সিরিয়া, সৌদি আরব ও পাকিস্তান থেকে আসে। এ ছাড়া ভারত থেকে আসে অস্ত্র ও গোলাবারুদ।

শোলাকিয়া চেকপোস্টে জঙ্গি হামলার এ ঘটনায় পুলিশের চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করা পাকুন্দিয়া থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সামসুদ্দীন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সদর থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান জানান, সিডি ডকেটসহ ৮০৩ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। শোলাকিয়া হামলায় জড়িত ২৪ জঙ্গির মধ্যে ১৯ জঙ্গি দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। অভিযোগপত্রে তাদের অব্যাহতি দিয়ে বাকি পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

আজ ২৪ প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ


%d bloggers like this: