ঢাকা, সোমবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, | ৩ পৌষ ১৪২৫ | ৯ রবিউস-সানি ১৪৪০

সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করার আদালতের নির্দেশে ‘বিস্মিত’ বিএনপি

সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করার আদালতের নির্দেশে ‘বিস্ময় প্রকাশ করেছে বিএনপি। এই বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার বিএনপির গঠনতন্ত্রে আনা ৭ ধারার সংশোধনী নিয়ে এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনের নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ।  রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
হাইকোর্টের অন্তবর্তীকালীন আদেশের পর রাতে স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ বিষয়ে কোনো রকমের সন্দেহ নেই। এটাই মূল কথা।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বিস্মিত হয়েছি এজন্য যে, একটি রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র নিয়ে একটা রিটের বিষয়ে কোর্ট যে আদেশ দিয়েছেন, তা একেবারেই নজিরবিহীন। আমাদের কাছে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক দল নিজের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চলে, সেই গঠনতন্ত্র যেটা থাকে, সেটাই চূড়ান্ত। সেক্ষেত্রে এই ধরনের রুলকে আইনজীবীরা বলেছেন গ্রহণযোগ্যই নয়।’
তিনি বলেন, ‘গ্রামে কিছু দুষ্ট মোড়ল থাকে, তারা প্রতিপক্ষকে কাবু করার জন্যে মিথ্যা ও সাজানো মামলা করে। ক্ষমতাসীনরাও সেটা করছে। এখন একটা পার্টির প্রধান কে হবেন, কে হবেন না, সদস্য কে হবেন, কে হবেন না, সেটা পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। এজন্য আমরা মনে করছি যে, এই রিট পিটিশন ও এটা বিএনপির বিরুদ্ধের একটা সামগ্রিক চক্রান্ত যেটা চলছে, এটা তারই একটা অংশ।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘ এমন আদেশের উদ্দেশ্য একটাই বিএনপিকে ধ্বংস করে দেওয়া। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিচার বিভাগকে তারা হাতিয়ার হিসেবে এক্ষেত্রে ব্যবহার করছে। আমরা পুরো প্রচেষ্টার নিন্দা জানাচ্ছি। বিএনপি হচ্ছে সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। দীর্ঘ ৪০ বছর বিএনপি বহুবার ক্ষমতায় এসেছে জনগণের রায় নিয়ে। বিএনপিকে সহজেই ধ্বংস করা যাবে না, নির্মূল করা যাবে না।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নাল আবেদীন, এজে মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

%d bloggers like this: