ঢাকা, সোমবার , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ | ১৩ মুহাররম ১৪৪০

সত্যের জয়, সত্যের পরাজয়!

মিথ্যা সকল নষ্টের মূল। আর গুজব হলো মহামারি ব্যাধির মতো। মিথ্যাচার ও গুজব প্রপঞ্চ দুটি শান্তি বিনষ্ট এবং সহিংসতা ও নৈরাজ্যের প্রধান নিয়ামক। সত্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তি। কিন্তু মিথ্যার শক্তিও কিছু কম না! কোন কোন ক্ষেত্রে মিথ্যার কাছে ‘সত্য’ বড় অসহায়! সত্য’কে সব সময় নিজেকে প্রমাণ করতে হয়। কিন্তু মিথ্যা কখনই নিজেকে প্রমাণের ধার ধারে না। মিথ্যাচার, প্রপাগান্ডা ও গুজব জন্ম নেয় কেবল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সন্দেহ ও ভেদাভেদ তৈরির অভিপ্রায়ে। এ কারণেই মানিক বন্দোপাধ্যায় বলেছিলেন- ‘মিথ্যারও মহত্ত্ব আছে। হাজার হাজার মানুষকে পাগল করে দিতে পারে মিথ্যার মোহ। চিরকালের জন্য সত্য হইয়াও থাকিতে পারে মিথ্যা’।
আসলেই কী তাই, মিথ্যা কী চিরকালের জন্য সত্য হয়ে থাকতে পারে? হয়তো পারে! হয়তো পারে না! তবে ইতিহাসে মিথ্যা’কে সত্য বলে গ্রহণের অসংখ্য নজির রয়েছে। কোন মিথ্যা সুপরিকল্পিতভাবে এবং সংগঠিত হয়ে প্রচার করা হলে তা সত্য বলে প্রতীয়মান হয়! অনেক ক্ষেত্রে সর্বজন গ্রাহ্য না হলেও সমাজের কোন কোন অংশ যখন মিথ্যা কিংবা গুজবকে বিশ্বাস করতে থাকে তখন তা সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পায়। আডলফ হিটলার যেমন বলেছিলেন- ‘যদি কোন মিথ্যাকে তুমি বারবার এবং সাবলীলভাবে বলতে পারো তবেই তা বিশ্বাসযোগ্য হবে’।
আসলেই সাবলীলভাবে মিথ্যা বলতে পারলে মানুষ বিশ্বাস করে। আর সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিরা মিথ্যা ছড়িয়ে দেওয়ার কাছে লিপ্ত হলে তার ভয়াবহতা আরও মারাত্মক। মিথ্যা কিংবা গুজবের শিকার অজ্ঞ মূর্খ ও অচেতন ব্যক্তিরা কেবল হন তা নয়, শিক্ষিত সচেতন সমাজও এর দ্বারা আক্রান্ত হয়ে ভুল পথে পারিচালিত হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ের বাংলাদেশকে পর্যালোচনা করলে তা সহজেই অনুমেয়। কোমলমতি শিক্ষির্থীদের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ দাবীতে গড়ে তোলা আন্দোলনকে ঘিরে নানা মিথ্যাচার, গুজব ও সহিংসতার চিত্র দেখেছে বাংলাদেশ। যৌক্তিক আন্দোলন, মিথ্যাচার, গুজব, সহিংসতা, ন্যায়-অন্যায়, গণতন্ত্র, ষড়যন্ত্র, বাক-স্বাধীনতা ইত্যাদি নানা প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আচ্ছন্ন গোটা বাংলাদেশ। বিশ্বাস, অবিশ্বাস, পক্ষপাত ও উস্কানি, হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ, সংঘাতের মতো মারাত্মক ঘটনাপ্রবাহ নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়েছিল জনমনে।


শিক্ষির্থীরা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ দাবীতে যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল তাতে প্রতিধ্বনিত হয়েছিল বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ স্লোগানে কণ্ঠ মিলিয়েছে বাংলার আকাশ-বাতাস জল-সমতল। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল স্বপ্নের একটি একটি সিঁড়ি। কিন্তু এক সপ্তাহ যেতেই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হলো শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনের মধ্যে বহিরাগতদের ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। বহিরাগত ক্যাডাররা নকল স্কুল ড্রেস ও ভুয়া আইডি কার্ড বানিয়ে আন্দোলনে প্রবেশ করে উস্কানিমূলক আচরণ ও গুজব ছড়িয়ে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এমনকী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সংঘাতের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান উদোক্তা রেজওয়ানের ভাষ্যমতে সরকারবিরোধী পক্ষ তার ফেসবুক আইডিটি হ্যাক করে নানা গুজব ও মিথ্যাচার ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বাশের-কেল্লাসহ বিভিন্ন আইডি থেকে পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের গুজব ও মিথ্যাচার চালানো হয়েছে। গুজব রটিয়ে ৫ আগস্ট ও ৬ আগস্ট ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে হামলা করা হয়েছে।
৫ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হলো জিগাতলায় আওয়ামী লীগ অফিসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আটকে রাখা হয়েছে, ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের গুলি করে হত্যা করছে, ৪ জন মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি! এমনকী অভিনেত্রী কাজী নওশাবা ও মৌসুমি হামিদও ফেসবুক-লাইভে একই ভাষায় উস্কানি দিলেন। দৃক গ্যালারির কর্ণধার শহিদুল আলমও একই সুরে বিষোদগার করে বিশ্বমিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করলেন। বিএনপি’র মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবও সংবাদ সম্মেলনে খুন ও ধর্ষণের অভিযোগ করলেন। একই সুর একই ভাষায়। বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ ও মাহমুদুর রহমান মান্না সাহেবদের ফাঁস হওয়া ফোনালাপ গুজবকে রাজনীতির পুঁজি করার সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।
গুজব সৃষ্টিকারীদের অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে। দেশের অনেক বুদ্ধিজীবী তাদেরকে গ্রেফতার করায় বাকস্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অথচ মিথ্যাচার ও গুজবের ক্ষতির প্রশ্নে নিরব থাকছেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণœ হলে গণতন্ত্র বিপর্যস্ত হয়। কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে অসত্য ও বিকৃত তথ্য ব্যবহার কিংবা নিজের দাবি জানাতে গিয়ে অন্যের অধিকার ক্ষুণেœর অধিকার কারও নেই। গুজব ছড়ানোর অধিকার কারও নেই।
২০১৩ সালে শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতের ঘটনার পর গুজব রটানো হয় হাজার হাজার আলেমকে হত্যা করা হয়েছে। ওই বছর একাত্তরের ঘাতক মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী সাঈদীকে ‘চাঁদে দেখা যাওয়া’র গুজব ছড়িয়ে বগুড়াসহ সারা দেশে বিভীষিকাময় সহিংসতা সৃষ্টি করা হয়েছিল। আমার দেশ পত্রিকায় পবিত্র মক্কা শরীফের গিলাফ নিয়ে ভুয়া খবর প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে গুজব ছড়িয়ে বৌদ্ধমন্দির ও বসতিতে আগুন দেওয়া হয়েছিল। আর ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর এবং গত বছর রংপুরে গুজব ছড়িয়ে হামলা চালানো হয়েছিল সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে।

বাংলাদেশের মানুষের মতো পৃথিবীর আর কোথাও কোন জাতি এতো গুজবের ভয়াবহতার শিকার হয়েছে কীনা জানা নেই। মুক্তিযুদ্ধের আগে পরে, ’৭৫-এর পনের আগস্টের পর বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার সম্পর্কে, আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সম্পর্কে যে পরিমাণ গুজব ছড়ানো হয়েছে তা নজির বিহীন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও গুজবের ভয়াবহ আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে বাংলাদেশ।

এদেশের রাজনীতি গুজবের ব্যবহার শুরু পাকিস্তান আমল থেকে। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পাকিস্তানি ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ সর্বাত্মক হরতাল পালিত হলেও সরকারি প্রেসনোটে বলা হয় ‘কেবলমাত্র হিন্দু দোকানপাট বন্ধ ছিল’! ’৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষার দাবীতে আন্দোলনরত ছাত্রহত্যার পর আইনসভায় মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন বলেছিলেন, ‘হিন্দু কমিউনিস্টদের উস্কানি আছে। তাদের নির্মূল করবো।’ ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে গুজব রটানো হয়- যুক্তফ্রন্টকে ভোট দিলে ইসলাম ধর্ম বিপন্ন হবে, পূর্ব বাংলা ভারতের অংশ হয়ে যাবে, যুক্তফ্রন্ট হিন্দু ভাষা ও সংষ্কৃতি আমদানি করতে চাইছে, ভারত থেকে হিন্দুরা এসে দলে দলে যুক্তফ্রন্টকে ভোট দিয়েছে ইত্যাদি! এরপর মুখ্যমন্ত্রী হয়ে শেরে বাংলা একে ফজলুল হক সাহেব চিকিৎসার জন্য কলকাতা গিয়ে একটি সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে গুজব সৃষ্টিকারীরা বলতে থাকে- শেরে বাংলা বিচ্ছিন্নতাবাদী, ভারতের দালাল ও বিশ্বাসঘাকত। সে সময় একই সুরে কথা বলতে থাকে সা¤্রাজ্যবাদী প্রচারযন্ত্রও। এখনও সামাজ্র্যবাদী ও মৌলবাদী প্রচারযন্ত্রগুলো সেভাবে গুজব ও মিথ্যাচারের পক্ষাবলম্বন করছে।
’৬২-এর স্বৈরাচার আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের সময় প্রচার ছিল- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ‘মুসলিম বিদ্বেষী হিন্দু’ এবং তার সাহিত্য বিজাতীয়, তাকে নিয়ে মাতামাতির অর্থ রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠার তৎপরতা এবং মুসলমানদের জন্য তা হারাম! ইত্যাদি অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। একইভাবে ’৬৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহ প্রার্থী হলে, ‘ইসলামকে অবমাননার জন্য মহিলা প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। মহিলাকে ভোট দেওয়া ধর্মীয় দৃষ্টিতে হারাম! ইত্যাদি গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়।
৬-দফা আন্দোলনের সময় চীনপন্থী কমিউনিস্টদের বক্তব্য ছিলÑ ‘বাঙালি-অবাঙালি পুঁজিপতিদের ফল হচ্ছে ৬-দফা, এটা সিআইএ প্রণীত।’ এমনকি মওলানা ভাসানী পর্যন্ত বলতে থাকেন- সিআইএ ৬-দফা রচনা করে আমাদের বোকা ছেলেদের হাতে তুলে দিয়েছে। ৬-দফায় এ দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের কোনো লাভ হবে না।’ ওই সময় এমন অপপ্রচারও ছিল যে, পহেলা বৈশাখ ও রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনের নামে ‘বিদেশী সংষ্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটানো হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামকে পাক-ভারত যুদ্ধ, আওয়ামী লীগ ভারতের দালাল, পাকিস্তান পরাজিত এই ভূ-খ- ভারতের অংশ হয়ে যাবে ইত্যাদি অপপ্রচার ছিল। বঙ্গবন্ধু সরকারের সময়ও বিভিন্ন রকম গুজব ছড়ায় কায়েমী স্বার্থবাদীরা। এসময় এদের মুখপত্র ছিল দৈনিক গণকণ্ঠ, সাপ্তাহিক হককথা। ’৭৪-এর দুর্ভিক্ষের সময় ইত্তেফাকের মতো পত্রিকাতেও বাসন্তীকে নিয়ে জাল পুড়িয়ে ছবি তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
’৭৫-এর পর অপপ্রচার ছিল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশ ভারতের কাছে বিক্রি হয়ে যাবে। ১৯৯১-এর নির্বাচনের আগে স্বয়ং বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেছিলেন- আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশে আজানের পরিবর্তে উলুধ্বনি শোনা যাবে। পাবর্ত্য শান্তি চুক্তির সময় বিএনপি-জামাত বলেছিল- ফেনি পর্যন্ত ইন্ডিয়া হয়ে যাবে। ২০০১-এর নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতা-কর্মীরা মুখে মুখে গুজব ছড়াতে থাকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের মসজিদগুলো মন্দিরে পরিণত হবে, মসজিদে মসজিদে ‘উলু ধ্বনি’ শোনা যাবে!
সংগঠিত হয়ে কিংবা রাজনৈতিক শক্তি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে গুজব রটানো ও মিথ্যাচারে লিপ্ত হলে তার ভয়াবহতা মারাত্মক। আমাদের দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও তাদের নেতা-কর্মী, সর্থকরা যুগের পর যুগ মিথ্যা ও অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। গুজব ও মিথ্যাচার বাংলাদেশকে যে পরিমাণ ক্ষতির সন্মুখিন করেছে তা হিসেবের খাতায় নিরূপণ করা সম্ভব নয়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর রাষ্ট্রীয় প্রচারযন্ত্র ব্যবহার করে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে।

ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে যত মিথ্যাচার ও গুজব ছড়ানো হয়েছে তার পিছনে রয়েছে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের প্রেক্ষাপট সৃষ্টিতেও পাক-মার্কিনগোষ্ঠী বাংলাদেশে তাদের এজেন্টদের দিয়ে বিভিন্ন গুজব ও মিথ্যাচার রটিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে সহিংসতার সৃষ্টি এবং একটি থমথমে অবস্থার মধ্যে গভীর রাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্ণিকাটের গোপন বৈঠক, তার গাড়িতে হামলা, বাংলাদেশের কিছু বুদ্ধিজীবীর সাথে আলাদা বৈঠক, যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দ্বা ইত্যাদি ঘটনার কী কোন যোগসূত্র রয়েছে? এমন প্রশ্ন যদি করা হয় তা হলো তার সঠিক উত্তর কী হবে তা আমার জানা নেই। কয়েক দিন আগে দুয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সিআইয়ে’র এজেন্ট হিসেবে দেশের কয়েকজন শীর্ষ স্থানীয় বুদ্ধিজীবীর সক্রিয় হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
নির্বাচন এলেই কিছু লোক সক্রিয় হয়ে ওঠেন। জাতির বিভিন্ন শঙ্কটে সমস্যায় তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যায় না। বন্যা, খরা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসে বিপর্যস্ত দুরাবস্থাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায় না কখনো। শুধু নির্বাচন এলেই উনাদেরকে রাজনীতির মঞ্চে খুঁজে পাওয়া যায়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘বাংলার উর্বর মাটিতে যেমন সোনা ফলে, ঠিক তেমনি পরগাছাও জন্মায়। একইভাবে বাংলাদেশে কতগুলো রাজনৈতিক পরগাছা রয়েছে।’
বাংলাদেশের কোন মানুষ পাকিস্তানপন্থী এ কথা আমাদের জন্য চরম লজ্জা ও অপমানের। ৩০ লক্ষ শহীদ ও ৩ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের কেউ মার্কিনপন্থী, চীনপন্থী, ভারত, রাশিয়া কিংবা অন্য কোন দেশপন্থী এ কথা আমরা আর শুনতে চাই না। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ পন্থা ব্যতীত অন্য কোন পন্থা চাই না।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সব চেয়ে বড় মিথ্যাচার হলো জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবী করা এবং ১৫ আগস্ট বেগম জিয়ার জন্মদিন। এই মিথ্যাচার যে রাজনৈতিক গোষ্ঠী বক্তৃতা, লেখনি ও কর্মসূচিতে লালন করে আর যাই হোক তাদের দ্বারা শুদ্ধাচার আশা করা যায় না। তারা মিথ্যা, বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়িয়ে বিবেকপ্রতিবন্ধী প্রজন্ম গড়ে তুলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে বাঁধাগ্রস্ত করতে চায়। পরিশীলিতের গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন মিথ্যাচারের গ্লানি থেকে থেকে পরিত্রাণ। তবেই সত্যের জয় হবে।

লেখকঃ রায়হান কবির : সংবাদকর্মী

(লেখাটি লেখকের একান্ত নিজস্ব অভিমত। আজ ২৪-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)


%d bloggers like this: