ঢাকা, মঙ্গলবার , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ | ১৫ মুহাররম ১৪৪০

‘সমকালীন গানে সময়ের ছায়া থাকা উচিত’

সমকালীন গানে সময়ের ছায়া থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে ‘সমকালীন গান, প্রগতি প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এমনটি বলেন তারা।

শনিবার বিকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালা ভবনের দুই নম্বর মহড়া কক্ষ (চিলেকোঠা)-তে অনুষ্ঠিত হয় এ সেমিনার। সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উদীচীর সাবেক সভাপতি কামাল লোহানী, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের  গণসঙ্গীত শিল্পী শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার, উদীচীর সহ-সভাপতি ও গণসঙ্গীত শিল্পী মাহমুদ সেলিম, উদীচী’র সহ-সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান, গণসঙ্গীত শিল্পী কফিল আহমেদ, সায়ান, জলের গান-এর প্রধান রাহুল আনন্দ, শিল্পী শাবাব আলী আরজু, বাংলা একাডেমীর উপ-পরিচালক অধ্যাপক ড. তপন বাগচি এবং উদীচী কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নাজমুল আজাদ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাহমুদ সেলিম। সভাপতিত্ব করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ। আর সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন।

লিখিত প্রবন্ধে উদীচী’র সহ-সভাপতি মাহমুদ সেলিম বলেন, প্রগতি হচ্ছে প্রকৃষ্ট গতি। এ গতি আপনা আপনি সূচিত হয় না। এর জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট লক্ষ্যে অগ্রগমনের জন্য মানুষের সচেতন প্রয়াস। সেই বিকশিত সমাজে পৌঁছানোর জন্য সচেতনভাবে তার ভিত্তি রচনা, ক্ষেত্র প্রস্তুত করা, মানসিক ও শারীরিকভাবে মানুষকে সংগঠিত করা, বাধাবিঘ্ন জয়ের জন্য সংগ্রাম করা থেকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রতিটি পদক্ষেপই প্রগতি। এই লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে শিল্প।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর আর একটি ধারা বাংলা সঙ্গীত জগতে প্রাবল্য লাভ করে। সেটি হচ্ছে পাশ্চাত্য প্রভাবিত ধারা। একে কেউ পপসংগীত, কেউ ব্যান্ড সংগীত ইত্যাদি নানা নামে অভিহিত করেন। একদিকে নতুন কিছু করার উদগ্র বাসনা অন্যদিকে স্বাধীনতার পর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান জনিত হতাশা এবং পাশাপাশি সেই হতাশাকে পুঁজি করে এক শ্রেণির মানুষের তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত ও নেশাগ্রস্ত করার সচেতন অপপ্রয়াস- এমনি জটিল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে পপ সংগীতের এই ধারাটির সূচনা। মুক্তিযোদ্ধা আজম খান, ফিরোজ সাঁই, লাকি আকন্দ প্রমুখ শিল্পীদের হাত ধরে শুরু হওয়া এ ধারা প্রথমে ছিল চিৎকৃত এবং দুর্বল বাণী আশ্রয়ী। কিন্তু এর জনপ্রিয়তা ছিল আকাশস্পর্শী। বাংলা গানের আরেকটি ধারা হচ্ছে লোকগানের ধারা, যেটি অত্যন্ত শক্তিশালী। কোন নতুন ধারার আগমনই একে দুর্বল করতে পারেনি। বরং নতুন ধারার অভিঘাতে চিরায়ত লোক ধারা বারবার পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। সমকালীন বাংলাগান বলতে সমকালে প্রবহমান সকল ধারাকেই ধরতে হবে।

প্রবন্ধে মাহমুদ সেলিম বলেন, সমকালিন বাংলাগানে একদিকে যেমন সমাজ সচেতনতা যোগ হয়েছে, অন্য দিকে সমাজের কূপমণ্ডুকতা, অন্ধবিশ্বাসের পুনরাবর্তন, সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধি, সুবিধাবাদ, হতাশা, ভাগ্য নির্ভরতা সমকালিন গানকেও কলুষিত করছে। তাই, লড়াইটি কঠিন হয়ে গেলেও, সমকালিন গানের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, গান হবে গণমুখী, জীবনমুখী, আরও লড়াকু এবং প্রগতিমুখী। যা সকল মানুষের প্রতি ভালোবাসা শেখাবে আর শেখাবে অধিকার অর্জনের জন্য লড়াই করতে।

আলোচনায় শিল্পী কফিল আহমেদ বলেন, জনপ্রিয়তাই উত্তম গায়ক হওয়ার প্রমাণ নয়। সময়ের ছায়া শিল্পীর গানে পড়তে বাধ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। সায়ান বলেন, কোন কিছুই মৌলিক নয়। একসময় গানে জীবনের প্রতিফলন থাকলেও বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই তা পরিলক্ষিত হয় না। এসময় তিনি এসময়ের গানে এ যুগের মানুষের জীবন সংগ্রামকে তুলে ধরার আহবান জানান।


%d bloggers like this: