ঢাকা, মঙ্গলবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ৩ রবিউস-সানি ১৪৪০

সাকী প্রশ্নে বিভক্ত বাম জোট

আট দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’ গঠনের পর বিকশিত হওয়ার আগেই বিভক্তিতে পড়ার মুখে। গণসংহতির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী প্রশ্নে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বাম জোট। ফলে কুঁড়ি ফুটে ফুল হওয়ার আগেই ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকী মহানগর নাট্যমঞ্চে গণফোরাম নেতা ড. কামালে হোসেনের ডাকে আয়োজিত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যোগ দেয়াতে এই বিভক্তির শুরু। বিষয়টি  মেনে নিতে পারছেন না জোটের অন্যরা। আর জোটের প্রধান শরিক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি- এই বিষয়টি নিয়ে বৈঠক ডেকেছে।

সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স সরাসরিই সাকির ভূমিকা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। সাকীর এই সমাবেশে যাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘সিপিবির কথা পরিস্কার। বাম জোটকে নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। নির্ভর করব জনগণের শক্তির উপর।’

শনিবার দিনাজপুরে বাম জোটের সভায় বক্তৃতা দেবার কথা ছিল সাকীর। কিন্তু কিছু না জানিয়ে তিনি সেখানে অনুপস্থিত থাকেন এবং যোগ দেন কামাল হোসেনের ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে।

আজ২৪ কে সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আওয়ামী লীগ- বিএনপি অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমরা একটা বাম গণতান্ত্রিক তৃতীয় শক্তির উত্থান চাই। আমরা সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা গতকাল জাতীয় ঐক্যে যাদের দেখলাম যেখানে জামায়াত নেতারাও ছিল। যেটা পত্রপত্রিকায় এসেছে। বাম গণতান্ত্রিক জোট ‘জাতীয় ঐক্যের’ সঙ্গে নেই। জোটের শরীক গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐক্যের অনুষ্ঠানে। এ বিষয়ে জোটের পক্ষ থেকে আলোচনায় বসা হবে।’

 

সাকীর প্রতি বিরক্ত প্রিন্স আরও বলেন, ‘বাম গণতান্ত্রিক জোটে আমরা যারা আছি। সবাইকে জোটের নীতি ও আদর্শ মেনে চলতে হবে। সিপিবি জোটের প্রধান। আমাদেরও জোটের সকল নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে চলতে হবে।’

গত ১৮ জুলাই সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন মিলে নতুন জোটের ঘোষণা আসে। দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে দেশব্যাপী শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এই জোট গঠন করা হয়েছে বলে তখন জানান নেতারা।

জোটের এই ঘোষণার মধ্যে বিএনপির অংশগ্রহণে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে যোগ দেয়ার বিষয়ে জোনায়েদ সাকী বলেন, ‘জোটে যোগ দেয়ার জন্য আমরা সেখানে যাইনি। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় যারা গেছে তাদের বক্তব্যের সাথে আমার বক্তব্যের পার্থক্য আছে।’ নির্ধারিত অনুষ্ঠানে অংশ নিলেননা কেন প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি তিনি।’

এই সমাবেশে যোগ দেয়া জোটের নীতির বিরুদ্ধে নয় দাবি করে সাকি বলেন, ‘আমাদের জোটের সিদ্ধান্ত আছে, দলগতভাবে, স্বাধীনভাবে যে যার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’জাতীয় ঐক্যের যে আলোচনা সেখানে সাকী নিজেও কথা বলেছেন কামাল হোসেনের সঙ্গে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যার যার অবস্থান থেকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে যে সংকট চলছে সে সংকট উত্তরণে আমাদের জাতীয় সমঝোতা দরকার। একটা গণতান্ত্রিক সনদের ভিত্তিতে আমাদের একটা জাতীয় সমঝোতা দরকার। বিদ্যমান সংকট আমাদের একটা মল্যযুদ্ধ ছাড়া কিছুই দিচ্ছে না।’

আমরা একটা জাতীয় ঐক্যমত্য চাই। ক্ষমতা হস্তান্তরের একটা গণতান্ত্রিক পথ চাই। গণসংহতি আন্দোলন সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।’


%d bloggers like this: