ঢাকা, সোমবার , ২২ অক্টোবর ২০১৮, | ৭ কার্তিক ১৪২৫ | ১২ সফর ১৪৪০

সুচিকিৎসার জন্য ১০ অক্টোবরের আগেই কি বিদেশ যাচ্ছেন খালেদা জিয়া?

সুচিকিৎসার জন্য

কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়া কি সুচিকিৎসার জন্য বিদেশ যাচ্ছেন? ১০ অক্টােবরের আগেই? এমন প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। সোশ্যাল মিডয়াতেও এমন আলোচনার সুত্রপাত ঘটেছে।বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সুত্রগুলোও এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডকেল কলেজ এর চিকৎসক সুত্র জানিয়েছে, চিকিৎসকরা সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর পরামর্শ দিলে সরকারের উচিত হবে তাকে সেই সুযোগ দেওয়া।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ১০ অক্টােবর দেওয়ার তারিখ রয়েছে। তার আগে সুচিকিৎসার জন্য দেশ ছাড়তে পারেন বেগম খালেদা জিয়া। তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে সৌদি আরব। দ্বিতীয় তালিকায় আছে লন্ডন।এদিকে আজ রোববার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেছেন বিএনপির আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধি দল। চার সদস্যের ওই প্রতিনিধি দল বিএসএমএমইউতে যান। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ।

প্রতিনিধি দলের অপর তিনজন হলেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন ও কায়সার কামাল।

বিএনপির আরেক আইনজীবী এহসানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল হারুনের সঙ্গে কথা বলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার অনুমতির চেষ্টা করছেন তারা। দুপুরের পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে যেতে পারেন বলে জানা গেছে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার পর মতিঝিল থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ছিল হত্যার অভিযোগে ও অপর মামলাটি ছিল বিষ্ফোরকদ্রব্য আইনে। এই ট্রাইব্যুনালে ২০১২ সালে মামলাগুলোর বিচারকাজ শুরু হয়। দুই মামলায় মোট আসামি ৪৯ জন। এদের বিএনপির প্রাক্তন মন্ত্রী লুতফুজ্জামান বাবর ও আব্দুস সালাম পিন্টুসহ মোট ২৩ জন কারাগারে রয়েছেন। এছাড়াও তিন জন সাবেক আইজিপিসহ আট জন জামিনে ও তারেক রহমানসহ ১৮ জন পলাতক রয়েছেন।

বিএনপির উচ্চপদস্থ এক সুত্র নাম না প্রকাশের সুত্রে বলেন, মহাসচিব এবং মওদুদ আহমেদ এর প্রচেষ্টায় বেগম জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার এই আয়োজন। আদালতের নির্দেশনা আসায় সরকারের জন্য বিষয়টি আরো সহজ হয়েছে।’ এদিকে বিষয়টির মধ্যে সত্যতার ইঙ্গিত মেলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পর্যায়ের একজনের কথায় তিনি বলেন, আদালত সুচিকিৎসায় বোর্ড গঠন করতে বলেছে। এখন বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেবে তাতো সরকারকে মানতে হবে। সেটা দেশ কিংবা বিদেশে যেখানে চিকিৎসার নির্দশনা আসুক না কেন তা সরকারের মানতে হবে।
আদালতের নির্দেশনা মেনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আনা হয়। বিকাল ৩টা ৪১ মিনিটে বিএসএমএমইউ’র প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছান তিনি। । এসময় হাসপাতালের পরিচালক, বিএসএমএমইউ উপাচার্য, ডিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ছিলেন।

খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ আনার খবরে সেখানে উপস্থিত হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির শীর্ষ নেতা ও আইনজীবীরা। এছাড়াও খালেদা জিয়াকে দেখতে বিএসএমএমইউ’র সামনে জড়ো হন মহিলা দলসহ বিএনপির নেতা-কর্মীরা। বিএসএমএমইউ’র সামনে উপস্থিত বিএনপির নেতাদের মধ্যে ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবদিন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দলীয় নেতা ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ।
গাড়ি থেকে নামানো হচ্ছে খালেদা জিয়াকে

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনককান্তি বড়ুয়া নিশ্চিত করেছেন, বিএসএমএমইউ’র কেবিন ব্লকের ৬১২ নম্বর কক্ষে খালেদা জিয়াকে রাখা হবে। তিনি জানান, খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউয়ে রাখার জন্য কেবিন ব্লকের ওই কক্ষে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার জন্য আদালতের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এর সদস্যরা হচ্ছেন কার্ডিওলজির অধ্যাপক সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী, রিউমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আতিকুল হক, অর্থোপেডিক বিভাগের অধ্যাপক নকুল কুমার দত্ত, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরী, ফিজিক্যাল মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদ। এর মধ্যে তিনজন খালেদা জিয়ার নিযুক্ত চিকিৎসক, বাকি দুজন সরকার নিযুক্ত নিরপেক্ষ চিকিৎসক।


%d bloggers like this: