ঢাকা, বুধবার , ১৯ জুন ২০১৯, | ৫ আষাঢ় ১৪২৬ | ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

‘সুবর্ণচরে গৃহবধূ ধর্ষণে ভোটের সম্পর্ক নেই’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সুবর্ণচরে গৃহবধূ ধর্ষণের কোনো সম্পর্ক খুঁজে পায়নি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটি। ওই গৃহবধূর স্বামীর করা এজাহারের ভাষ্য মতে, পূর্ব শত্রুতার জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, কমিশনের তদন্ত কমিটি ধর্ষণ ও গুরুতর আঘাতের সঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক আছে বলে প্রমাণ পায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ওই নারী যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তার সত্যতা মিলেছে। এক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।

কমিশনের পক্ষ থেকে যথাযথ তদন্ত করে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মামলার এজাহারে ওই নারীর ধানের শীষের নেতা-কর্মী-সমর্থক হওয়া তার ধানের শীষে ভোট দেওয়া, আসামিরা নৌকা প্রতীকের নেতাকর্মী-সমর্থক ও পোলিং এজেন্ট হওয়া, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী বিরোধের জের ধরে মারধর বা ধর্ষণের শিকার হওয়া তা উল্লেখ নেই। বরং এজাহারে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আসামিরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মারধর ও ধর্ষণ করে। এছাড়া ওই নারী তদন্ত কমিটির সামনে দেওয়া জবানবন্দির কোথাও বলেননি যে তিনি ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন। তার স্বামীও এসব কথা বলেননি।’

স্বামী-স্ত্রীর জবানবন্দি থেকেই প্রতিবেদনের উপসংহার হিসেবে বলা হয়েছে, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়া বা ভোট দেওয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বা আসামিরা আওয়ামী লীগের কর্মী হওয়া বা আওয়ামী লীগের কোনো কর্মীর মাধ্যমে ওই নারীকে মারধর ও ধর্ষণের শিকার হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় না।’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনের কপি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।

গত ১ জানুয়ারি মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে কমিশনের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচন সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে সুবর্ণচরের ঘটনার বিষয়ে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক তাৎক্ষণিকভাবে কমিশনের পরিচালকের (অভিযোগ ও তদন্ত, জেলা ও দায়রা জজ) নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেন। এই দল পরের দিনই ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী, নারীর স্বামী, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক, পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে কমিটি কমিশনের চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদনটি জমা দেয়।

কমিশনের প্রতিবেদনে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিমের জবানবন্দি, ইনজুরি সার্টিফিকেট, এক্স-রে প্রতিবেদন, থানার ওসিসহ সবার বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। সব বক্তব্য বিশ্লেষণ করে কমিশনের তদন্ত কমিটি যে মতামত দিয়েছে তা হলো ওই নারীকে গুরুতর জখম করা হয়েছে এবং ধর্ষণ করা হয়েছে।

আজ ২৪ প্রতিবেদক, ঢাকা


%d bloggers like this: