ঢাকা, মঙ্গলবার , ২৩ জুলাই ২০১৯, | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ | ১৯ জিলক্বদ ১৪৪০

স্কুলের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে দরিদ্র শিশুদের পাশে কিছু কিশোর

স্কুলের টিফিনের

শুরুটা স্কুলের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে। যারা নিজেরাই কিশোর ক্ষুদে, অর্থ আয় করেনা। কিন্তু স্কুলের টিফিনের পয়সা বাঁচানো অর্থ দিয়ে দরিদ্র শিশুদের হাসি কিনতে চেয়েছে। সেই চেষ্টাকে তারা প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেওয়ার লক্ষে্য এগুচ্ছে।
হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের কয়েকজন কিশোর দশম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অসহায়দের বিনামূল্যে শিক্ষাসামগ্রী, স্কুল ড্রেস, নতুন বস্ত্র ও খাদ্য বিতরণ করে আসছে। তাছাড়াও কিশোর কিশোরীরা বাল্যবিবাহ রোধ করতে
বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা জন্য কাজ করছে। সহপাঠীদের নিয়ে মাদকবিরোধী আন্দোলন করে আসছে।
অল্প কয়জন দিয়ে শুরু হওয়া সে প্রচেষ্টায় সামিল এখন ১৫০ ছাত্র ছাত্রী। সেই লক্ষে ১৫০ জন সদস্য সংগ্রহ করেছে বিভিন্ন স্কুল। তারা প্রতিদিন টিফিনের টাকার অংশ হতে কিছু পরিমাণ টাকা জমা রাখে। তারপর তারা মুলত এই টিফিনের টাকা থেকেই অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরকে সহযোগিতা করে। তারা এটিকে উপজেলার ছড়িয়ে দিতে চায়। যেন সহযোগীতার হাত আরো বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে।

ভাবনাটি প্রথম আসে নবম শ্রেণীর মাহমুদুল হক রিয়াদের মাথায়। আজ২৪কে কিশোর রিয়াদ জানায়, লক্ষ্য করেছিলাম আমাদের সাথে অনেকেই পড়ে যারা কিছু টাকার অভাবে ভালভাবে পড়াশোনা করতে পারে না। আমি এ কথাটা আমাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করি। অনেকে অনেক কিছু বলে আবার কেউ রাজি হয়। এর মধ্যে মাহফুজুল হক ফাহাদ (৯ম শ্রেণি) ও জাবির আল হাসান ( ৯ম শ্রেণি) রাজি হয়। আমরা চিন্তা করি যে প্রতি সপ্তাহে আমরা টিফিনের টাকা থেকে কিছু বাঁচিয়ে কাজ করব। আমরা ৩ জন টাকা জমাতে থাকি। এক পর্যায়ে রমজান মাসে আমরা সব বন্ধুদেরকে নিয়ে একটা ইফতার মাহফিল করি সেখানে সবাই খুশি খুশি হয়ে কিছু টাকা দেয়। যা আমাদের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। আমাদের সাথে সময় দিবে এমন কাউকে পাচ্ছিলাম না। তখন তীব্র (দশম শ্রেণি) সে আমাদের সাথে কাজ করতে রাজি হয়। তারপর তার সাথে তাদের কয়েকজন বন্ধু আমাদের সাথে কাজ করতে রাজি হয়। তারপর আমরা মোট পনের জন হই। একপর্যায়ে রমজান মাসে সব বন্ধুকে নিয়ে একটি ইফতার মাহফিল করি।  সেখানে সবাই খুশি হয়ে কিছু টাকা দেয়। যদিও তা আমাদের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। এছাড়া আমাদের সঙ্গে সময় দেওয়ার মতো কাউকে পাচ্ছিলাম না। তখন দশম শ্রেণির তীব্র আমাদের সাথে কাজ করতে রাজি হয়। তার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কয়েকজন বন্ধু আমাদের সাথে কাজ করতে রাজি হয়। এতে আমরা মোট পনেরো জন একত্রিত হই।’


আমরা ১৫ জন স্কুলে কালেকশন করি এবং ৭০ জন অবহেলিত শিশুর হাতে ঈদ বস্ত্র তুলে দিতে পারি এবং ৩০ টি পরিবার কে খাদ্য বস্তু, সেমাই, তেল, চিনি, নুডলস, দুধ এবং সাবান দেই। তারপর আমরা আমাদের সদস্য বাড়াতে থাকি। এখন আমরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা সামগ্রী সহায়তা করে থাকি।
রিয়াদের ভাষ্য, আমরা ১৮ বছরের নিছে যারা তাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করি। ঝড়ে পড়া ছাত্রদেরকে আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে লেখাপড়ায় উৎসাহিত করি। অসহায় শিশুদেরকে বিনোদনের মাধ্যমে হাসি মুখে স্কুলে ফেরাতে সর্বচ্ছো সহযোগীতা করি। আমরা চাই হোসেনপুর উপজেলার প্রতিটি স্কুল এমন কাজ করুক।

এই প্রয়াসকে তারা সাংগঠনিক রুপ দেওয়ার কাজে এগিয়ে চলেছে। নিজেদের প্রচেষ্টার নাম রেখেছে তারা ‘শিশুদের হাসি ফাউন্ডেশন’। এই লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে তাদের ভাবনা। তারা পাশে পেয়েছ তাদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম জহির রায়হানকে। আজ২৪কে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এম চেষ্টাকে সাধুবাদ না জানােনাটা অন্যায় হবে। তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি যথাসাধ্য।


%d bloggers like this: