ঢাকা, বুধবার , ১৭ জুলাই ২০১৯, | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ | ১৩ জিলক্বদ ১৪৪০

সড়কে মৃত্যু : মামলার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বাড়লেও চাপের মুখে এসব ঘটনায় করা মামলার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত বছরের ১২টি দুর্ঘটনার মধ্যে শুধু একটি মামলার বিচার শুরু হয়েছে। অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে দুটি মামলায়। যদিও এই দুই মামলার বাদীরা বিষয়টি জানেন না। অভিযোগপত্র দেওয়ার আগে বাদীকে জানানোর নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। বাকি ৯টি মামলার তদন্ত কবে শেষ হবে, তা দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।

১২টি মামলার মধ্যে যেটির বিচার চলছে, সেই দুর্ঘটনা গত বছরের ২৯ জুলাইয়ের। সেদিন রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা এলাকায় বাসচাপায় প্রাণ হারায় দুই কলেজশিক্ষার্থী আবদুল করিম (রাজীব) ও দিয়া খানম (মীম)। এই দুর্ঘটনার পর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। তখন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হয়, শিশুরা ‘চোখ খুলে’ দিয়েছে। আর ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছিলেন, শিক্ষার্থীরা পুলিশকে একটি নৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনার মামলার তদন্তের অগ্রগতি খুঁজতে গিয়ে নৈতিক ভিত্তির ওপর আসলেই পুলিশ দাঁড়িয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, আসামিদের গ্রেপ্তার ও অভিযোগপত্র জমা দেওয়ায় পুলিশ ‘ধীরে চলো’ নীতিতে চলছে। ফলে এসব মামলার বিচারও শুরু হচ্ছে না।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১২টি দুর্ঘটনার মামলায় মোট আসামি ২৬ জন (২ জন মৃত)। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আর গ্রেপ্তার করা ১১ জনের মধ্যে জামিনে ৫ জন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জামিনে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন ২ জন।

এসব দুর্ঘটনায় ভুক্তভোগীরা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কেও তাদের কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ। সড়ক দুর্ঘটনার বিচার কর্তৃপক্ষ আসলেই চায় কি না, তা নিয়েও হতাশায় ভুগছেন তারা।

দুর্ঘটনার মামলার তদন্তের গাফিলতি সম্পর্কে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, এটা খুব দুঃখজনক। যারা সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজন হারিয়েছেন বা যারা পঙ্গু হয়েছেন, বিচারটা তাদের জন্য সান্ত্বনা। এটা মনে রাখা দরকার। সড়ক দুর্ঘটনার বিচার দ্রুত হওয়‌া খুব জরুরি।

আলোচিত দুর্ঘটনাগুলোর কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ছয়টি ঘটনাতেই চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, দুটি গাড়ির চালকের লাইসেন্সের ত্রুটি ছিল, ফিটনেস সনদ ছিল না দুটির, তিনটির রুট পারমিট ছিল না, একটি ট্রাকের নকশায় ত্রুটি ছিল, দুটি গাড়ির চালক মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। এর মধ্যে ঢাকার ভেতরে ঘটেছে আটটি দুর্ঘটনা (৩ এপ্রিল থেকে ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে ঘটেছে)। বাকি চারটি দুর্ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে (২৫ ফেব্রুয়ারি), কুষ্টিয়ায় (২৮ আগস্ট), নাটোরের বনপাড়ায় (২৫ আগস্ট) ও পঞ্চগড়ের দশমাইল (২৬ অক্টোবর) এলাকায়।

গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ হাজার ৯৫৪ জন মারা গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়।

অবশ্য সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে সরকার। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইশতেহারে আওয়ামী লীগ অঙ্গীকার করেছে, ‘নিরাপদ সড়ক আইন, ২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্ঘটনা ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া নিরাপদ সড়কের জন্য লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ফিটনেসবিহীন গাড়িকে পারমিট না দেওয়া, চালকদের লাইসেন্স প্রদানে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করার কথা বলেছে দলটি।

আজ ২৪ প্রতিবেদক, ঢাকা


%d bloggers like this: