ঢাকা, বুধবার , ২৪ জুলাই ২০১৯, | ৯ শ্রাবণ ১৪২৬ | ২০ জিলক্বদ ১৪৪০

১০০ নদী খননের উদ্যেগ, প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যায়

নদী খননের

দেশের বিভিন্ন জেলার ছোট-বড় ১০০টি নদী খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর জন্য প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যায় হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে সরকার।

নাব্য সংকটের কারণে দেশের নৌপথগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী নৌ-রুটগুলোর নাব্যতা উন্নয়ন ও সংরক্ষণে ড্রেজিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য চর পড়ে যাওয়ায় নাব্য বা গভীরতা কমে যাওয়া ১০০ নদী খননের এই উদ্যেগ। নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ নৌপথের ১০০টি নদী খনন করে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার নৌপথের নাব্য উন্নয়ন ও সংরক্ষণ করা হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ নৌরুট ও ফেরি রুটগুলোতে সারাবছরই যাতে ফেরি, লঞ্চ, কার্গো ভেসেল ও অন্যান্য নৌযান নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সেই জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই কাজ করতে ড্রেজিং চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে।’

এ প্রকল্পে ৪৪৮৯ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যায় করা হচ্ছে। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এই বরাদ্দ আসবে। প্রকল্পটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিআইডব্লিউটিএ বাস্তবায়ন করবে। ২০২৩ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

এদিকে আরও ৩৫টি নতুন ড্রেজার ও সহায়ক জলযান কেনার সিদ্ধান্ত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক পরিষদের জাতীয় নির্বাহী কমিটি-একনেক। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের অভ্যন্তরীণ নদী খননের জন্য ৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযান কেনা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বিবরণে জানা যায়, নতুন কেনা ৩৫টি ড্রেজার দিয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, আরিচা, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, শিমুলিয়া, মাদারীপুর, বরিশাল, রামপাল, গাইবান্ধা, কক্সবাজার, চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর ও সিলেট এলাকার নদী খনন করা হবে।

বিআইডব্লিউটিএ’র বহরে বর্তমানে ২৫টি ড্রেজার রয়েছে। যা দিয়ে বছরে প্রায় এক কোটি ১৪ লাখ ঘনমিটার মাটি ড্রেজিং করা যায়। বেসরকারি ড্রেজারসহ সব মিলিয়ে বাংলাদেশের মোট ড্রেজিং সক্ষমতা বছরে ৮ কোটি ৪৬ লাখ ঘনমিটার। কিন্তু বার্ষিক ড্রেজিং চাহিদা রয়েছে ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ঘনমিটারের। অর্থাৎ দেশে এখন বার্ষিক ড্রেজিং ঘাটতির পরিমাণ ৮০৯ লাখ ঘনমিটার। নতুন প্রকল্পের আওতায় ৩৫টি ড্রেজার কেনা হলে বিআইডব্লিউটিএ’র বার্ষিক ড্রেজিং ক্ষমতা আরও ৫ কোটি ৫৮ লাখ ঘনমিটার বাড়বে। এর সঙ্গে বেসরকারি ড্রেজার নিয়ে কাজ করা গেলে মোট চাহিদার ৭০ দশমিক ৮১ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে।

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ফেরি ও নৌ-রুটগুলোতে সারাবছর ফেরি, লঞ্চ, কার্গো ভেসেল ও অন্যান্য নৌযান চলাচলের উপযোগী গভীরতা বজায় রাখতে ড্রেজিং করে থাকে বিআইডব্লিউটিএ। তবে দেশের নদীগুলোর নাব্য সংরক্ষণের জন্য বছরে যে পরিমাণ ড্রেজিং করা প্রয়োজন সেই সক্ষমতা প্রতিষ্ঠানটির নেই। সেই সক্ষমতা বাড়ানোর জন্যই এসব ড্রেজার কেনা হচ্ছে।

গৃহীত প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন রকমের কাটার সাকশন ড্রেজার, ট্রেইলিং সাকশন হোপার ড্রেজার, ওয়াটার ইনজেকশন, জিটিং ড্রেজারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া ৫টি অফিসার হাউজবোট ও ৩০টি ক্রু হাউজবোট সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অফিসার কোয়ার্টার, স্টাফ কোয়ার্টার ও ডরমিটরি নির্মাণ করা হবে।


%d bloggers like this: