ঢাকা, মঙ্গলবার , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ | ১৫ মুহাররম ১৪৪০

৬১ জেলায় চেয়ারম্যান হতে চান ৭০১ আ.লীগ নেতা

জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি অংশ না নেওয়ার কথা বললেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের নিজ দলের প্রার্থীদের সঙ্গে লড়তে হতে পারে। কাগজে-কলমে ‘নিরপেক্ষ’ এই নির্বাচনের প্রতিটি জেলায় থাকছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, বেশির ভাগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিই আওয়ামী লীগ সমর্থিত।
জেলা পরিষদ নির্বাচনে গত ১৮ নভেম্বরের মধ্যেই জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের আবেদন পাঠাতে বলে আওয়ামী লীগ। এ পর্যন্ত কতজন জেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে আবেদন করছেন জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন চেয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মোট ৭০১ জন আবেদন করেছেন।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দুটি সূত্র জানায়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আধিক্য থাকার কারণে দেশের ৬১টি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রার্থীরাই বিজয়ী হচ্ছেন। তাই যিনি আওয়ামী লীগের সমর্থন পাবেন, তিনিই হবেন চেয়ারম্যান। এ কারণে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেতে আবেদন করেছেন বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, থানার সভাপতি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, এমনকি জেলা এবং থানার সদস্যরাও। ফলে তাদের মধ্যে থেকে একক প্রার্থী দেওয়া দলটির জন্য কষ্টসাধ্য।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘নির্দলীয় নির্বাচন হওয়ায় যে কেউ জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। তবে আওয়ামী লীগ সৎ, যোগ্য ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে সমর্থন দেবে।’

আওয়ামী লীগের দুজন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরাই বিজয়ী হবে, এটা নিশ্চিত। ‘নির্দলীয়’ হলেও দলীয় শৃঙ্খলা আনতেই আওয়ামী লীগ নির্দিষ্ট একজনকে সমর্থন দেবে। এমনকি জেলা পরিষদের সদস্য এবং সংরক্ষিত সদস্যদেরও দলীয়ভাবে ঠিক করে দেওয়া হবে। তবে প্রার্থীর সংখ্যা একাধিক হওয়ায় একক প্রার্থী নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তাঁদের ধারণা।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রথম আলোকে বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ঠিক করতে এখনো দু-তিনটি বৈঠক করতে হবে। এখন পর্যন্ত একটি বৈঠক হয়েছে। সেখানে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

আওয়ামী লীগের আরেক জন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলীয় সমর্থন দেওয়া হচ্ছে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকানোর জন্য। যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থী হবেন, তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আর ৬১ জেলায়ও একাধিক প্রার্থী দলীয় সমর্থন চেয়েছেন। ফলে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা নাও যেতে পারে।

তিন পার্বত্য জেলা বাদে আগামী ২৮ ডিসেম্বর ৬১টি জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আইন অনুযায়ী, জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। ভোট দেবেন ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রতিনিধি বা নির্বাচকমণ্ডলী। এঁদের ভোটে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও সংরক্ষিত পাঁচজন নারী সদস্য নির্বাচিত হবেন। অর্থাৎ অরাজনৈতিক এই নির্বাচনের বেশির ভাগ ভোটারই রাজনৈতিকভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।


%d bloggers like this: